চলচ্চিত্র ভাষা শিক্ষার ‘জীবন্ত শ্রেণিকক্ষ’: সংসদ সদস্য মানসুরা আলম
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ দুপুর

চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের জীবনকে বোঝার একটি জীবন্ত মাধ্যম বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম।
রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত ‘IML Film Fest’-এর দ্বিতীয় আসরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মানসুরা আলম বলেন, ‘ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়; ভাষা হচ্ছে পৃথিবীকে দেখার একেকটি জানালা।’ নতুন একটি ভাষা শেখার মাধ্যমে মানুষের সামনে নতুন সমাজ, সংস্কৃতি ও চিন্তার জগৎ উন্মোচিত হয়।
দার্শনিক লুডভিগ ভিটগেনস্টাইনের ধারণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভাষার সীমাই মানুষের জগতের সীমা। একটি ভাষার বই হয়তো একটি শব্দের অর্থ শেখাতে পারে, কিন্তু একটি চলচ্চিত্র দেখাতে পারে কোন পরিস্থিতিতে একজন মানুষ সেই শব্দ ব্যবহার করছে, কী অনুভূতি নিয়ে করছে, তার মুখের অভিব্যক্তি কী এবং শব্দটির সাংস্কৃতিক তাৎপর্য কী। তাই চলচ্চিত্র ভাষা শিক্ষার একটি ‘জীবন্ত শ্রেণিকক্ষ’।
অস্কারজয়ী ‘12 Years a Slave’ চলচ্চিত্রের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসের বই দাসপ্রথা সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। কিন্তু একটি ভালো চলচ্চিত্র একজন মানুষের চোখ দিয়ে নিপীড়ন, অপমান ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে অনুভব করার সুযোগ তৈরি করে।
IML Film Fest-কে শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শনের আয়োজন হিসেবে না দেখে ভাষা শিক্ষাকে শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটি সৃজনশীল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।
মানসুরা আলম বলেন, ‘আজকের পৃথিবীতে শুধু ইংরেজি জানলেই চলবে না।’ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কূটনীতি, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের জন্য আরও ভাষা জানা প্রয়োজন।
বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে মাধ্যমিক পর্যায়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভাষা এখন শুধু সংস্কৃতির বিষয় নয়; এটি মানবসম্পদ, অর্থনীতি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত।
বাংলাদেশের ভাষাবৈচিত্র্য সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বহু ভাষা রয়েছে, যেগুলোর কিছু বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। বিশেষ করে রেংমিটচা ভাষার মতো বিপন্ন ভাষা সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় ও ভাষা-চর্চাকারী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, একটি ভাষা হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু কিছু শব্দ হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার একটি অংশও হারিয়ে যায়।
চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে মানসুরা আলম বলেন, ‘সিনেমা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সংস্কৃতিচর্চা কোনো বিলাসিতা নয়; এটি জাতির অস্তিত্বের মৌলিক অংশ।’
বাংলাদেশের সমন্বয়বাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্বাধীন চিন্তার গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ভাষা মঞ্চের সভাপতি সোয়াইব ইসলাম ওমি, সাধারণ সম্পাদক কাজী শাহাদাত হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন খুরশেদ অমিওসহ আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।





_medium_1791188478.jpg)
_medium_1791188228.jpg)
