পূর্বধলা সরকারি কলেজে উপাধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ বিকাল

নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট, প্রতিবছর ফলাফল বিপর্যয় ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতনের অপসারণ ও বিচার এবং দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। একই দিন ভোররাতে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।

পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল কলেজ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভকারীরা উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতনের অপসারণ ও বিচার এবং দ্রুত নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সম্প্রতি পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে এক দিনের ব্যবধানে বদলি ও পদায়ন বাতিল করানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবছর কলেজের ফলাফল বিপর্যয় হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
তাদের আরও অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিবছর নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ফরম পূরণের টাকা নেওয়া হয়। এসব কারণে কলেজের শিক্ষার পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পূর্বধলা সরকারি কলেজে ভর্তি না হয়ে শহরমুখী হচ্ছে এবং কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির হারও কমে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বিক্ষোভ কর্মসূচির কয়েক ঘণ্টা আগে রবিবার ভোররাত ৩টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দরজার কিছু অংশ কালচে হয়ে গেছে।

কলেজের নাইটগার্ড মাফিজ উদ্দিন (৫৫) বলেন, ভোররাত ৩টার দিকে তিনি দেখতে পান, হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। তিনি এগিয়ে গেলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে তিনি পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কলেজের সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ঘটনার কোনো ফুটেজও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রুবায়েত খান শান্তের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তারা মিছিল নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতন সাংবাদিকদের বলেন, একটি গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী পূর্বধলা সরকারি কলেজে অগ্নিসংযোগের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, নিন্দনীয় ও ন্যক্কারজনক। অজ্ঞাতনামা একদল ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেছে। তাঁর কক্ষের দরজায় আগুন দেওয়ার ঘটনাটিও ওই ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি লিখিত অভিযোগ দেবেন। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
অন্যদিকে, উপাধ্যক্ষের অপসারণ ও পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বলেন, তাদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
পূর্বধলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আগুন দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় আগুন দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সম্প্রতি পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তবে যোগদানের একদিন পরই তার বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। ওই আদেশের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) যোগদান করেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটার দিকে কলেজে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর একদিন পরই তাঁর পদায়ন বাতিলের আদেশ জারি হয়।
মাত্র এক দিনের ব্যবধানে অধ্যক্ষের পদায়ন বাতিলের ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের পর থেকে প্রায় আট বছর ধরে কলেজটির উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।

_medium_1791087295.jpg)





