আন্তর্জাতিক ‘শিশু শান্তি’ পুরস্কারে মনোনীত হলেন শেরপুরের শায়রি
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ দুপুর

শিশুদের ‘নোবেল’ হিসেবে পরিচিত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার-২০২৬-এর জন্য শেরপুর এর ফারাবি জাবিন শায়রি মনোনীত হয়েছেন।
শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রচারাভিযান এবং পথশিশুদের নিয়ে সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছে। আর এসব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সে এই মনোনয়ন পেয়েছেন।
৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৬ সালের মনোনীতদের তালিকায় ফারাবি জাবিন শায়রি এর নাম প্রকাশ করা হয়।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে অবস্থিত শিশু সহায়তা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা শিশুদের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়ে থাকে। চলতি বছর ৫৭ টি দেশে ২৮০ জন শিশু মনোনীত হয়েছেন।
ফরাবি জাবিন শায়রি (১৬) বাংলাদেশের সীমান্ত জেলা শেরপুরের অধিবাসী। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বেড়ে ওঠার সময় ফরাবি দেখেছে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তার বয়সী মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কাছের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোতে সে দেখেছে, কুসংস্কার আর স্কুলের অভাবে শিশুরা দারিদ্র্যের চক্রে আটকা পড়েছে, যেখান থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ তাদের প্রায় নেই বললেই চলে। নিজের পরিবারের কাছ থেকে ক্রমাগত নিরুৎসাহ সত্ত্বেও ফরাবি মুখ ফিরিয়ে নেয়নি।
সে প্রথমে শেরপুরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালায়, পরে তার কাজ ঢাকায় প্রসারিত করে এবং সরাসরি পথশিশুদের সাথে কাজ শুরু করে। সে একটি শিশু অধিকার উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করেছে যা শিশুদেরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
তিনি শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে প্রচারণার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় পথশিশুদের সাথে সরাসরি কাজ শুরু করেছেন। তিনি শিশুদের অধিকার রক্ষায় একটি উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন যার মূল ভাবনা হলো—স্কুল হবে শিশুদের জন্য ‘দ্বিতীয় বাড়ি’। এর আওতায় তিনি ‘সেফ চাইল্ড ক্লাব’ (Safe Child Clubs) প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা বাল্যবিবাহ, নির্যাতন বা শিশুশ্রমের মতো বিষয়গুলো নিরাপদে জানাতে পারে এবং কর্তৃপক্ষ সেগুলোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সাম্প্রতিক এক নির্বাচনের সময় তিনি পথশিশুদের নিয়ে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করেছিলেন; এসব ভিডিওতে দেখানো হয়েছিল যে, জাতীয় পর্যায়ে নানা অগ্রগতি সত্ত্বেও তাদের জীবনযাত্রায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
তাঁর কাজের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে; তাঁর প্রচারণামূলক ভিডিওগুলো হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অদম্য মনোবল ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে ফারাবি তাঁর এলাকার সবচেয়ে অবহেলিত শিশুদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠছেন-ধাপে ধাপে, একেকটি প্রচারণা, একেকটি ক্লাব এবং একেকটি ভিডিওর মধ্য দিয়ে।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে শায়রি বলেন, এই মনোনয়ন আমার জন্য শুধু একটি স্বীকৃতি নয়, বরং শিশুদের অধিকার নিয়ে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা। ছোটবেলা থেকেই আমি বিশ্বাস করি, পরিবর্তনের জন্য বড় হওয়ার অপেক্ষা করতে হয় না শিশুরাও শিশুদের জন্য আওয়াজ তুলতে পারে। এই স্বীকৃতি আমাকে আরও বেশি শিশু ও তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করার সাহস দেবে। পুরস্কার পাই বা না পাই, শিশুদের জন্য আমার কাজ চলমান থাকবে।






_medium_1791002233.jpg)
