বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় জমি বিরোধ ও মাজারে গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে মসজিদে তালা দেওয়ার অভিযোগ


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ রাত

নেত্রকোণার পূর্বধলায় মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ ও পাশের একটি মাজারে গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে নছিবপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের গেটে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বুধবার সকালে মসজিদটিতে ফজরের নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের বিঘ্ন ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে মসজিদের গেটের তালা খুলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার নছিবপুর গ্রামের নছিবপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

মসজিদ কমিটির অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মসজিদের ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ ওয়াক্‌ফকৃত জমি নিয়ে স্থানীয় রেজাউল করিম রামিম, উছমান মিয়া ও ইদ্রিছ আলীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, রেকর্ড অব সার্ভে (বিআরএস) জরিপে ভুলবশত জমিটি রেকর্ডভুক্ত না হওয়ার সুযোগে বিবাদী পক্ষ ওই জমি দখলের চেষ্টা করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মসজিদের পাশে ইদ্রিছ আলী ‘খানকায়ে রহমানিয়া সৈয়দ গোলাম মরতুজা মাইজভান্ডারীয়া ইদ্রিছ আলী মাইজভান্ডারি খানকা শরীফ’ নামে একটি মাজার গড়ে তোলেন। সেখানে প্রতিরাতে এশার নামাজের পর গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও লোকজনের আনাগোনা চলত বলে অভিযোগ মসজিদ কমিটির। এ নিয়ে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজের পর মসজিদের গেটে তালা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে পরদিন সকালে মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করতে পারেননি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে মাওলানা ওয়াসেফ বিল্লাহ নোমানীর নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক জন লোক মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা মাজারটি ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম ও পূর্বধলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ

ঘটনাস্থলে যান। পরে ইউএনও ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান বুলবুলের উপস্থিতিতে মসজিদের গেটের তালা খুলে দেওয়া হয়।

এ সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে খানকা শরীফ বা মাজারে আর গান-বাজনা না করার সিদ্ধান্ত জানানো হলে মাজার কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেয় বলে ইউএনও জানান।

তবে মসজিদের গেটে তালা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খানকা শরীফের ইদ্রিছ আলী। তার দাবি, তাকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং তিনি মসজিদের গেটে তালা দেননি।

পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদের গেটে তালা লাগানোর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। কারা তালা লাগিয়েছে, তা তদন্ত করে বের করার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘খানকা শরীফে আর কোনো ধরনের গান-বাজনা করা যাবে না-এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে এবং মাজার কর্তৃপক্ষ তা মেনে নিয়েছে।’

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত