শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে পিটিয়ে আহত, থানায় অভিযোগ দায়ের 


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩২ রাত

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় রেকর্ডীয় জমি দখলকে কেন্দ্র করে গিয়াস উদ্দিন নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে ও কাদার মধ্যে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টার দিকে বেড়াইল গ্রামের কৃষি জমিতে এ ঘটনা ঘটে।

​এ ঘটনায় বেড়াইল গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে একই গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন রসু (৫৫)-সহ ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনকে বিবাদী করে পূর্বধলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেড়াইল মৌজার সিএস ও এসএ ৩৯১ খতিয়ান এবং বিআরএস ৩৬৯ খতিয়ানভুক্ত মোট ১ একর ৩ শতাংশ জমি নিয়ে বাদী ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

বাদীর পরিবারের দাবি, উক্ত জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে ১৯৮১-৮২ সনের বিআরএস রেকর্ডে ভুলবশত বাদীর পিতা গিয়াজ উদ্দিনের পরিবর্তে বিবাদীদের পিতাদের নাম লিপিবদ্ধ হওয়ায় বিবাদী পক্ষ জমিটি দাবি করে আসছে। এই রেকর্ড সংশোধনের জন্য ২০২৩ সালে নেত্রকোনার পূর্বধলা বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা (মামলা নং-৬৮/২০২৩) দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বিবাদী পক্ষ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, দা, কোদাল ও লাঠিসোটা নিয়ে উক্ত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়। এতে বাদীর বাবা গিয়াস উদ্দিন (৭৫) বাধা দিলে বিবাদীরা তাঁর ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে ১ নম্বর বিবাদী জসিম উদ্দিন রসু ঘুসি মেরে তাঁর ডান চোখে গুরুতর জখম করেন এবং অন্যান্য বিবাদীরা তাঁকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 

আহত গিয়াজ উদ্দিনকে উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

​এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিবাদী মো. জসিম উদ্দিন রসু মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, "এই জায়গা আমাদের দাদার ওয়ারিশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা ২২ কাঠা জমি বেশি নিয়ে নেয়। আমরা বারবার তাগাদা দিয়েছি এটা নিয়ে বসতে, কিন্তু তারা বসে না। ঘটনার দিন আমি জমিতে গিয়ে বলি- ক্ষেত আমি চাষ করব, নয়ত তোমরা এটা নিয়ে বস। কথা বলে আমি ওখান থেকে চলে যাই এবং পরে এসে ধান চাষ করি। আমি বা আমরা কোনো মারামারি করিনি।"

​এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, "জমি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত