বরযাত্রী কনের বাড়িতে, বাড়িতে প্রেমিকার হানা; বিয়ে পণ্ড, রাতে বাবার ঝুলন্ত লাশ
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ সকাল

নেত্রকোণার পূর্বধলায় ছেলের বিয়ের জন্য বরযাত্রী কনের বাড়িতে যাওয়ার পর বাড়িতে এসে হাজির হন এক নারী। নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করে ওই নারীর উপস্থিতির পর বিয়ে ভেঙে যায়। পরে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বরের বাবা মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া (৪৫) আত্মহত্যা করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়া (২২)-এর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ওই দিন দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে বরযাত্রী কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে দুই নারী এসে উপস্থিত হন। তাঁদের একজন কুড়িগ্রাম জেলার পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের মেয়ে মোছা. জান্নাতী খাতুন (২৮)। অপরজন তার মামাতো বোন মোসা. শাহিনুর বেগম (২৮)।
জান্নাতী খাতুন দাবি করেন, হেলাল মিয়ার সঙ্গে তার ১০ থেকে ১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। ২৮ জুলাই তাদের বিয়ের কথা ছিল। তবে হেলাল মিয়া মোবাইল ফোন বন্ধ করে বাড়িতে চলে আসায় তাঁদের বিয়ে হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। জান্নাতী আরও জানান, তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন এবং পূর্বের সংসারে তাঁর একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনা বিয়েবাড়িতে জানাজানি হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিয়েটি আর সম্পন্ন হয়নি। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে বিয়ের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে। সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে বরপক্ষ বাড়িতে ফিরে আসে।
স্থানীয়দের দাবি, বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ছেলে বিয়ে করতে কনের বাড়িতে যাওয়ার পর বাড়িতে প্রেমিকার উপস্থিতি এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে পণ্ড হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। এরই জেরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ বসতঘরের পূর্ব পাশে সাইদুল ইসলামের পুকুরের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি আমগাছের সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি।
পরে সুরুজ মিয়ার স্ত্রী হেলেনা স্বামীকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে বিষয়টি জানতে পারেন।
খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরুজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিয়েবাড়িতে আসা জান্নাতী খাতুন ও শাহিনুর বেগমকেও পুলিশ হেফাজতে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ছেলের বিয়েকে ঘিরে পরিবারের আনন্দের আয়োজন শেষ পর্যন্ত বিষাদে পরিণত হয়। বরযাত্রী যখন কনের বাড়িতে, তখন বাড়িতে প্রেমিকার উপস্থিতি, বিয়ে ভেঙে যাওয়া এবং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাবার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


_medium_1785418405.jpg)




