বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে গৃহবধূর ওপর হামলার অভিযোগ


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ রাত

আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভাসুর ও প্রতিবেশীদের পূর্বপরিকল্পিত হামলায় এক নারী মারাত্মকভাবে জখম ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে নেত্রকোণার পূর্বধলা থানার নয়াপাড়া দারুল উলুম মাদ্রাসার সামনের পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইয়াছমিন (৩১) বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় তার ভাসুর মোঃ আবুল হাসেম (৩০), শাশুড়ী ফিরোজা (৬৫), জা খাদেজা (২৫) এবং প্রতিবেশী এরশাদ (৪০) ও হাসু (৭০)-সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ১৫১৪) দায়ের করেছেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলা হুগলা ইউনিয়নের কালিহর মাইজপাড়া গ্রামে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিবাদীদের সাথে ইয়াছমিনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিবাদী ১ নং আসামি ভাসুর আবুল হাসেম কু-নজর থেকে বিভিন্ন সময় বাদীর শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে বাদী ইয়াছমিন পূর্বে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা (কেস নং: ৮২/২০২৩) দায়ের করেছিলেন।

মঙ্গলবার উক্ত মামলার ধার্য তারিখে নেত্রকোণা কোর্টে হাজিরা শেষে বাড়ি ফেরার পথে আনুমানিক বিকেল ৩:৫০ ঘটিকায় একটি সিএনজিতে করে এসে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ১ নং বিবাদীর হুকুমে অন্য আসামিরা তাকে মারধর শুরু করে এবং ১ নং বিবাদী সজোরে ঘুষি মেরে ইয়াছমিনের ডান চোখের ওপর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় অন্যান্য আসামিরা তার চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে এবং গলায় চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা চালায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় পথচারী ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ইয়াছমিনকে পরবর্তীতে সুযোগমতো পেলে জানমালের ক্ষতির হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ভাসুর মো. আবুল হাসেমের মুঠোফোন নম্বরে (01910911648) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ৫ নম্বর অভিযুক্ত হাসু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হামলার ঘটনায় তিনি কিছুই জানেন না। ইয়ামিনের সঙ্গে তার রাস্তায় কোনো দেখাও হয়নি। 

এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত