বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি: এনসিপি, বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের কড়াকড়ি


  মো: মহিউদ্দিন আহাম্মেদ

প্রকাশ :  ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৮ দুপুর

গতকালের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার আশঙ্কায় রয়েছে হবিগঞ্জ। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদলের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে পুরো হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
 
বুধবার (২৯ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়, এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভার পাশাপাশি একই সময়ে ও একই স্থানে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা, পৌর বিএনপি এবং জেলা ছাত্রদলের পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা রয়েছে। উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম এবং চলমান উত্তেজনার কারণে সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জনস্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
 
আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, জনসভা, মিছিল, মাইকিং, স্লোগান, পিকেটিং, বিকট শব্দ সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
 
এর আগে এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলার দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। কর্মসূচিতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
 
অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল এবং বিএনপির পক্ষ থেকেও পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ায় শহরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
 
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সংলগ্ন থানা মোড় এলাকায় এনসিপির ‘জুলাই বাস্তবায়ন’ সমাবেশ শেষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাবেশ শেষে সারজিস আলম ও নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হলে থানা মোড় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
 
সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী এবং হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহবুব চৌধুরী মুবিন রয়েছেন।
 
পরিস্থিতির অবনতি হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রথমে শহরের একটি ব্যাংক ভবনে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। রাত প্রায় ১১টার দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সিলেটে পাঠানো হয়।
 
সংঘর্ষের ঘটনায় এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের বহরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন।
 
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, “শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জে কেউ উসকানিমূলক ও অশালীন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। সংঘর্ষে ছাত্রদল বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই। বরং উসকানিমূলক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।”
 
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ বলেন, “সমাবেশ চলাকালে যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে এনসিপির নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে পুলিশ। এ কাজে প্রায় ১২০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। আজকের কর্মসূচিগুলোকে ঘিরেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
 
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল রাজনৈতিক দলকে আইন মেনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত