শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নামফলক নিয়ে বিতর্ক, মুছে নতুন নাম লাগানোর অভিযোগ


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৭ রাত

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদরের স্টেশন বাজারে রেলওয়ের ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার নামফলক নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাদ্রাসাটির প্রবেশগেটের নামফলক কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পরে একই স্থানে পরিবর্তিত নামে একটি ছাপা কাগজ লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্র ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পূর্বধলা স্টেশন বাজার জামে মসজিদসংলগ্ন পূর্বধলা রেলওয়ে স্টেশন মোহাম্মদিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সিমেন্টের প্রবেশগেটের ওপর থাকা নামফলকটি কালো কালি দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। নামফলকটিতে প্রতিষ্ঠানের নামের নিচে ‘পূর্বধলা, নেত্রকোনা’, ‘স্থাপিত-১৯৮০’, ‘প্রতিষ্ঠান কোড-৫৩৩৯১’ এবং ‘প্রতিষ্ঠাতা-ডা. মোহাম্মদ আলী’ লেখা ছিল।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি রেলওয়ের ভূমি লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট মাদ্রাসাটির নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার রফিকুল ইসলামকে সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান বলেন, “জুমার নামাজের পর আমি বাড়িতে শুয়েছিলাম। হঠাৎ শুনতে পাই, কে বা কারা প্রতিষ্ঠানের নাম মুছে ফেলছে। দ্রুত এসে দেখি নামফলকটি মুছে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারকে জানিয়েছি। আমরা ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই।”

এদিকে, শুক্রবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ওই স্থানে ‘মোহাম্মদীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা, প্রতিষ্ঠাতা: আলহাজ্ব ডা. মোহাম্মদ আলী, পূর্বধলা স্টেশন বাজার, পূর্বধলা, নেত্রকোনা’ লেখা একটি ছাপা কাগজ লাগানো হয় বলে জানা গেছে।

মাদ্রাসাটির পাশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “দুপুর ৩টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক এসে প্রতিষ্ঠানের নামফলকটি মুছে দিয়ে যায়। পরে বিকেল ৫টার দিকে আবার নতুন নাম লেখা একটি কাগজ লাগিয়ে দিয়ে যায় তারাই।”

তবে নামফলক পরিবর্তনের ঘটনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ্ব ডা. মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা আনোয়ারুল ইসলাম আনার। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি যারা করেছে, এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”

এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএসএম শহীদুল্লাহ ইমরান বলেন, “কারা নামফলকটি মুছে দিয়েছে, তা আমার জানা নেই। তবে প্রতিষ্ঠানটি সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ডা. মোহাম্মদ আলী প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ‘মোহাম্মদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে শুনেছি, একটি চক্র প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘মোহাম্মদিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’ নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বিতর্কিত নামফলক পরিবর্তন করে পুনরায় ‘মোহাম্মদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা’ নামে সাইনবোর্ড টানান। এখানে প্রতিষ্ঠাতার নাম পরিবর্তন করা হয়নি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সামনের কয়েকটি দোকান ভাড়া দেওয়া রয়েছে। এসব দোকানের ভাড়া আগে মসজিদ ও মোহাম্মদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার নামে আদায় করা হতো এবং তা মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হতো। কিন্তু ‘ইবতেদায়ী মাদ্রাসা’ নাম ব্যবহার করে ওই দোকানগুলোর ভাড়া দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ভাবে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব অর্থেরও সঠিক কোনো হিসাব নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিষয়গুলো বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান এএসএম শহীদুল্লাহ ইমরান।

এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি আমি শুনেছি। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি বিরোধ চলছে। আমি দুপক্ষকে নিয়ে আগামী সোমবার বসব। দুপক্ষকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।”

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত