হবিগঞ্জে বন্যা ঠেকাতে স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হবে: পানি প্রতিমন্ত্রী
মো: মহিউদ্দিন আহাম্মেদ
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৫ বিকাল

হবিগঞ্জে বারবার বন্যা ও খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। দেড় মাসের ব্যবধানে একই এলাকায় দ্বিতীয়বার খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি দেখতে তিনি সেখানে যান।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হবিগঞ্জ যেন কোনো অবস্থাতেই বন্যায় প্লাবিত না হয়, সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়েই বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এই বর্ষার পরই আমরা সেই প্রকল্পের কাজ করব।”
তিনি বলেন, খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরিস্থিতি পরিদর্শন করা হয়েছে। বারবার বাঁধ ভেঙে যাতে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে জন্য স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে সুইসগেট স্থাপনের প্রয়োজন আছে কি না, তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এরই মধ্যে খোয়াই নদীর বাঁধের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। তবে পানির গেট খুলে দিয়ে কোনো অঞ্চলের মানুষকে বন্যাকবলিত করা উচিত নয়। এভাবে বন্যায় ফেলে দিলে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ, হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ সময় হুইপ জি কে গউছ বলেন, খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ওই এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মানুষের এই কষ্টের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাঁধের কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, কাজের মান ও অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করবেন জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
বাঁধ ভাঙার ঘটনায় কিছু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মিডিয়ার লোকজন মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন বলেও অভিযোগ করেন জি কে গউছ।
তিনি বলেন, সত্যকে আড়াল করে মিথ্যাকে সামনে এনে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারেন না। বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করাই তাদের উদ্দেশ্য। তবে বিএনপি প্রতিহিংসায় বিশ্বাস করে না; সবাইকে নিয়ে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়।

_medium_1787662553.jpg)

_medium_1787662139.jpg)

_medium_1787661651.jpg)
_medium_1787661488.jpg)
