বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম

শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের পৃথক প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে চেয়ার ভাঙচুর,আহত-৫


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ২০ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩১ দুপুর

 শেরপুরে বুধবার বিকেলে এবং রাতে পৃথকভাবে সেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। রাতে শহরের থানা মোড়ে অনুষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবক দলের আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর আয়োজন করা হয়। ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে রাত ১১ টায় একদল উশৃংখল তরুণ এসে মঞ্চের সামনের প্রায় শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করে চলে যায়। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়।

জানা গেছে, ১৯ আগস্ট বুধবার বিকেল চারটায় শহরের থানা মোড় মুক্তমঞ্চে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নিয়ামুল হাসান আনন্দ। এর আগে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শহরে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ পলাশ। এসময় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ হযরত আলী, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আকরামুজ্জামান রাহাত, বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম স্বপন, শ্রমিক দল নেতা শওকত হোসেনসহ স্বেচ্ছাসেবক দল, বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে থানা মোড়ের স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিএনপির অপর অংশের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে বিষোদাগার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে বক্তব্য দেন নেতৃবৃন্দরা। 

এরই প্রতিবাদে বুধবার রাতে শহরের রঘুনাথ বাজারস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম সানির সভাপতিত্বে পৃথক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আবু রায়হান রুপন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন কামরুল হাসান। 

এই সভায় বক্তারা অন্য গ্রুপের নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদাগার করার প্রতিবাদে তারাও পাল্টা চাঁদাবাজি সহ নানা অভিযোগ এনে বক্তব্য রাখেন। 

এদিকে রাত এগারোটায় থানা মোড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে এক একদল উশৃংখল তরুণ মঞ্চের সামনে শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করে চলে যায়। এ সময় থানা মোড় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় চেয়ারের আঘাতে পাঁচ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কেউই ভর্তি হয়নি। 

যুবদল নেতা মোঃ শওকত হোসেন চেয়ার ভাঙচুর এবং পাঁচজন আহত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে এর সাথে কারা জড়িত সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি।

এছাড়া এই চেয়ার ভাঙচুর ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কোন গ্রুপই  দায় স্বীকার করেনি। 

উল্লেখ্য, প্রায় সাত মাস যাবত শেরপুর জেলা বিএনপির কমিটি না থাকায় দলের ভেতর চাপা গ্রুপিং চলছে । সে কারণে দলের কেন্দ্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পৃথক গ্রুপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গ্রুপ দুটির মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শেরপুর-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ রুবেল এবং জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমান সদর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ হযরত আলী নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত