বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম

শেরপুরে অটোরিকশার জন্য নারীর প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে খুন করেন অটোচালক মান্নাছকে


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০২ বিকাল

শেরপুরে প্রায় তিন বছর পর এক অটোচালক হত্যা মামলার তদন্তে মূল আসামিদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ‘পিবিআই’।

শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম টালকি গ্রামের দরিদ্র অটোচালক মন্নাছের অটোরিকশা আত্মসাৎ এর লক্ষ্যে একই গ্রামের মোস্তাকিন (৩০), পার্শ্ববর্তী ভূর্দি গ্রামের মোঃ শাহিন (৪০) এবং টালকি গ্রামের মোঃ স্বপন (৪২) তাকে নারীর প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বিলের পারে হত্যা করে এবং তার অটোরিকশার যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ২২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

১৯ আগস্ট বুধবার দুপুরে শহরের পুরাতন গরুহাটিস্থ পিবিআই কার্যালয়ে পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানায়, ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভাড়ায় অটোরিকশা চালানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর ২৫ ডিসেম্বর সকালে তার মৃতদেহ পাঠাকাটা বাঘমারি বিলে কাদা মুক্ত মাটিতে কচুরী পানার নীচে পুতা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে নকলা থানা পুলিশ মন্নাছের মরদেহ উদ্ধার করে। এই মরদেহ উদ্ধারের সময় হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি স্বপন সঙ্গে থেকে লাশ উদ্ধার করলেও কেউ বিষয়টি তখন সন্দেহ করতে পারেনি। 

এ ঘটনায় পরে মন্নাছের স্ত্রী আসমা আক্তার ওইদিন অজ্ঞাতনামা আসামি করে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

এরপর বেশ কিছুদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে নকলা থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্যের কিনারা খুঁজে পাচ্ছিল না। 

এমন অবস্থায় পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ জুলাই পিবিআইকে তদন্ত দেয়া হলে তারা তদন্ত শুরু করেন। এক পর্যায়ে পিবিআই গভীর তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট ঘটনার সাথে জড়িত মোস্তাকিনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ১৭ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত শাহিনকে এবং ১৮ আগস্ট অপর আরেক আসামি মোঃ স্বপনকে গ্রেফতার করেন পিবিআই।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃরা হত্যাকাণ্ডের দায়ী স্বীকার করে কিভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন তার বিবরণ দেন বলে পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানায়।

এ সময় তিনি বলেন, আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির টিম প্রথমে সন্দেহ ভাজন ওই তিনজনকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যাকান্ডের বিবরণ দেন। এ সময় তারা স্বীকারোক্তি দেন যে, মুন্নাছ তাদের পূর্ব পরিচিত এবং দীর্ঘদিন তারা একসাথে আড্ডা দেয়ার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে মেয়ে মানুষ নিয়ে ফুর্তি করতেন।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওই অটোরিকশাটি আত্মসাৎ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রথমে স্বপন মন্নাছকে মেয়ে মানুষের কথা বলে ভ্যানগাড়ীসহ তাকে নিয়ে পাটাকাটা বাজারে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে মোস্তাকিন ও শাহীন অবস্থান করছিল। প্রথমে সেখানে তারা চা পানসহ আড্ডা দিতে থাকে। এরপর রাত আনুমানিক দশটার দিকে স্বপন মন্নাছ বলে যে, মেয়েটি বাঘমারী বিলের কাছে এসে গেছে এখনই যেতে হবে। পরবর্তীতে মন্নাছের ভ্যানগাড়ী যোগে মোস্তাকিন, স্বপন এবং শাহীন পাঠাকাটা বাঘমারী বিলের দিকে যেতে থাকে। বিলের কাছাকাছি গিয়ে মন্নাছ একটি বাড়ীর পাশে ভ্যানগাড়ীটি তালা দিয়ে রেখে আসে। এসময় মন্নাছসহ আসামীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক মোস্তাকিন মন্নাছের গলা চেপে ধরে এবং শাহীন ও স্বপন এলোপাথাড়ী কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকলে একপর্যায়ে মল্লাছ মৃত্যুবরণ করে। তখন তারা মন্নাছের মরদেহ কাদা ও কচুরীপানা দিয়ে ঢেকে রেখে তার ভ্যানগাড়ীটি নিয়ে চলে আসে। পরবর্তীতে আসামীরা ভ্যানগাড়ীটি ভেঙ্গে লোহার বডি ভাঙ্গারীর দোকানে আট হাজার টাকায় এবং নকলা বাজারের একটি ব্যাটারির দোকানে ৪টি ব্যাটারি ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত