সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম

আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন শেরপুরের অভি


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫২ বিকাল

বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে দুই গোল্ড মেডেলসহ দ্রুততম গণিত সমাধানে বিশ্ব রেকর্ড করেছে ইয়াসীন তাফসির অভি।  আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডের এই আসরে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা অর্জন করে বিশ্বজয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর খুদে মেধাবী ইয়াসীন তাফসির অভি।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড ফেডারেশনের এডুকেশন পার্টনার ব্রেইন স্কুলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াড। 

শেরপুরের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন অর্জনকে জেলার জন্যও বড় গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন অভির পরিবার ও শিক্ষকরা।

অভির এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ থেকেও দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা সনদ।‘World’s Largest International Abacus Olympiad’ এর এবারের আসরে প্রায় ১৪টি দেশের দেড় হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে বলে আয়োজক প্রতিষ্ঠান থেকে জানানো হয়েছে।

২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডের প্রথম পর্বে জুনিয়র লেভেলে অংশ নেয় ইয়াসীন তাফসির অভি। প্রথম পর্বে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ সাফল্যের পর ২০২৬ সালের ২ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটির চূড়ান্ত পর্ব। সেখানেও অসাধারণ ফলাফল করে অভি অর্জন করে ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা। দুই পর্বের সাফল্যে তার হাতে ওঠে দুটি গোল্ড মেডেল।

অ্যাবাকাসের পাশাপাশি স্পোকেন ইংলিশেও দক্ষতা অর্জন করেছে অভি। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনে তার আগ্রহ রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু শেখার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। বর্তমানে ময়মনসিংহ নগরীর ক্যামব্রিজ মডেল স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে অভি।

ইয়াসীন তাফসির অভি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ইমরান হাসান রাব্বি ও ঝর্ণা আক্তার দম্পতির বড় ছেলে। তার বাবা ইমরান হাসান রাব্বী একজন গণমাধ্যমকর্মী, বর্তমানে ডিবিসি নিউজে ময়মনসিংহ ব্যুরো চিফ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

অভির আন্তর্জাতিক সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়স্বজনসহ স্থানীয়রা আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। বিশেষ করে শেরপুরের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন অর্জনে তারা গর্বিত। পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, অভির এই অর্জন জেলার অন্য শিশুদেরও মেধা বিকাশে উৎসাহিত করবে।

অভির বাবা ইমরান হাসান রাব্বী বলেন, “ছেলের এই অর্জন আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। একই সঙ্গে শেরপুরের সন্তান হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। অভি ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

অভির মা ঝর্ণা আক্তার বলেন, “ছোটবেলা থেকেই অভির বিভিন্ন বিষয়ে শেখার আগ্রহ রয়েছে। অ্যাবাকাস শেখার প্রতিও তার অনেক আগ্রহ ছিল। তার এই সাফল্যে আমরা খুবই আনন্দিত। আত্মীয়স্বজনসহ সবাই খুশি এবং গর্বিত।”

পরিবারের প্রত্যাশা, এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের জন্য আরও সম্মান বয়ে আনবে  এই খুদে মেধাবী।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত