সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম

গাইবান্ধায় গৃহবধূর ওপর অমানুষিক নির্যাতন,মাথায় শতাধিক সেলাই


  আসাদুজ্জামান রুবেল

প্রকাশ :  ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৭ বিকাল

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার গৃধারীপুরে স্বামীর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক সেলাই নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন দুই সন্তানের জননী শ্রাবণী আক্তার (২৩)।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৯ আগস্ট রাতে।স্থানীয় সূত্র ও আহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পলাশবাড়ী পৌরসভার আমবাড়ী গ্রামের আমছার আলীর ছেলে জনি মিয়ার (৩২) সঙ্গে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের গারানাটা গ্রামের ছামছুল ইসলামের মেয়ে শ্রাবণী আক্তারের (২৩) প্রায় চার বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই সন্তানের জন্ম হয়েছে।

আহত শ্রাবণীর পরিবারের অভিযোগ,বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই জনি মিয়া যৌতুকের দাবিতে শ্রাবণীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন।মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় অসহায় বাবা-মা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দেন।কিছুদিন পর আবারও যৌতুকের টাকা দাবি করা হলে শ্রাবণী তা আনতে অস্বীকৃতি জানান।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গভীর রাতে তাকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, জনি মিয়া তার মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন।

পরে বটি দিয়ে মাথা ও হাতে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।তিনি আরও জানান,পরদিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে শ্রাবণীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে একটি অটোরিকশাযোগে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

পরে শ্রাবণীর স্বামী সড়ক দুর্ঘটনার কথা বলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান বলে পরিবারের দাবি।সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আহত অবস্থায় জনি মিয়া কৌশলে শ্রাবণীকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন এবং পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা।বর্তমানে আহত শ্রাবণী আক্তার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শ্রাবণীর পরিবার ও স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় আহত শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় একটি এজাহার দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত