পূর্বধলায় মসজিদের দেয়াল ভাঙা, পুনর্নির্মাণে বাধা ও হুমকির অভিযোগ
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৪ রাত

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় একটি জামে মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা, পুনর্নির্মাণে বাধা প্রদান এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ করার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি।
উপজেলার খলিশাউড় ইউনিয়নের পাজুনিয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন আহমেদ (৬২) বাদী হয়ে পাজুনিয়া গ্রামের ছয়জনের বিরুদ্ধে পূর্বধলা থানায় এ লিখিত অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে মসজিদের সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন জানান তিনি।
ইউএনও বরাবর দেওয়া আবেদনে নিজাম উদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, সম্প্রতি মসজিদের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে মসজিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি মুসল্লিদের ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং মসজিদের পরিবেশ ও সম্পদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সালিশে উপস্থিত হননি। পরে গত ৪ জুলাই পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। জনস্বার্থ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং মসজিদের সীমানাপ্রাচীর পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
অন্যদিকে, থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মসজিদের পূর্ব পাশের দেয়াল ঘেঁষে অভিযুক্তদের যাতায়াতের রাস্তা রয়েছে। যাতায়াতের সুবিধার কথা বলে গত ২০ জুন অভিযুক্তরা মসজিদের দেয়াল ভেঙে দেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত হননি।
পরবর্তীতে গত ৩ জুলাই সকাল ১০টার দিকে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিজস্ব অর্থায়নে দেয়াল পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে কাজে বাধা দেন এবং দেয়াল নির্মাণ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগভুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—পাজুনিয়া গ্রামের হাবুল মিয়া (৪৫), শাহিন (৩০), জুয়েল মিয়া (৪০), মোস্তফা (৫০), সাহেব আলী (৭০) ও নাজমিন (৩৫)।
তবে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জুয়েল মিয়া। তাঁর দাবি, মসজিদের দেয়াল নির্মাণের জায়গাটি সরকারি হালটের অংশ এবং সেখানে প্রায় ২৩ ফুট প্রশস্ত রাস্তা রয়েছে। কয়েকটি পরিবারের মানুষ ও ব্যাটারিচালিত রিকশা ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। যানবাহন চলাচলের জন্য কয়েক ফুট রাস্তা রেখে দেয়াল নির্মাণের কথা বলা হলেও পুরো রাস্তা বন্ধ করে মসজিদের নামে জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে বাধা দেওয়ার সময় সামান্য ধাক্কাধাক্কি হলেও কাউকে মারধর বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
মসজিদ কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মসজিদ রক্ষা ও আমাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম জানান, “অভিযোগের বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।”






_medium_1787113335.jpg)
