শেরপুর পৌর ভবন যেন অক্সিজেন ভান্ডার ছাদ বাগান পেলো জাতীয় পুরস্কার
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৫ দুপুর

শেরপুর পৌরসভার ভবন যেন এক টুকরো অক্সিজেন ভান্ডার। পৌর ভবনের প্রাচীরের সামনে ও ভিতরে, ভবনের রিসিপশন, সিঁড়ি, ব্যালকনি, বারান্দা, প্রশাসক সহ কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষ, মিলনায়তন সর্বোপরি ছাদের উপর ৩ শতাধিক প্রজাতির সবুজ গাছে মোড়ানো উদ্যান ইতিমধ্যে শহরের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের নজর কেড়েছে।
ভবনের সিঁড়ি বেয়ে শেরপুর পৌরসভা কার্যালয়ের চারতলার ছাদে উঠলেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা মনোরম বাগান। সারি সারি আম, জাম, জলপাই, সফেদা, কতবেল, লটকনসহ নানা ফলদ, ঔষধি ও বনজ গাছের পাশাপাশি রয়েছে নানা বাহারি রঙের ফুল, সবজি ও বিরল প্রজাতির গাছ। আছে বিভিন্ন জাতের অর্কিড, শাপলা ও পদ্মও। প্রতিটি গাছের পাশে লাগানো হয়েছে বৈজ্ঞানিক নামের ফলক।
শেরপুর পৌরসভার এই ছাদবাগান এবার জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে তৃতীয় হয়েছে বাগানটি। গত ৯ আগস্ট ঢাকার আগারগাঁও বন ভবনে পুরস্কার গ্রহণ করেন পৌরসভার প্রশাসক ও শেরপুর জেলা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক আরিফা সিদ্দিকা।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে প্রায় ৬ হাজার ১০০ বর্গফুটের ছাদে ছোট পরিসরে বাগানটি করা হয়। আরিফা সিদ্দিকা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর উদ্যোগে ৪ হাজার ৮৮০ বর্গফুট জায়গায় বাগানটি নতুনভাবে সাজানো হয়। গাছগুলোকে আলো, বাতাস ও পানি পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে বিভিন্ন অংশে বিন্যাস করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভা ভবনের গুরুত্বপূর্ণ কক্ষ, মিলনায়তন, বারান্দা, সিঁড়ির ধাপ, রিসিপশন সব জায়গাতেই টবের ভিতর বিভিন্ন গাছ স্থাপন করা হয়।
বর্তমানে বাগানে রয়েছে ১০ প্রজাতির বনজ, ২০ প্রজাতির ফলদ, ১৮ প্রজাতির ভেষজ, প্রায় ২০০ প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। এ ছাড়া রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় ৯ প্রজাতি, ১০ প্রজাতির অর্কিড, ৭ প্রজাতির বিরল এবং ১৮ প্রজাতির সবজি ও অন্যান্য গাছ।
সম্প্রতি বাগান ঘুরে দেখা যায়, ফুল, ফল, সবজি ও ভেষজ—আলাদা কর্নারে সাজানো হয়েছে গাছগুলো। ড্রাম ও টবে লাগানো গাছগুলোর পাশে বৈজ্ঞানিক নামের ফলক। ছাদের এক পাশে চৌবাচ্চায় ফুটেছে শাপলা ও পদ্ম। ঝুলন্ত টবে শোভা পাচ্ছে নানা জাতের অর্কিড। নিচ থেকে উঠে আসা আমগাছের ডালপালাও ছাদবাগানের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাড়িয়েছে সৌন্দর্য।
এছাড়া পৌর প্রশাসক এর অফিস কক্ষ এবং মিলনায়তন এর ভেতরে টবের মধ্যে সাজানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন নানা প্রজাতির বৃক্ষ। এছাড়া ভবনের বারান্দা এবং ব্যালকনিতে সারিবদ্ধ ভাবে রয়েছে বাহারি পাতাবাহার, অর্কিড ও ক্যাকটাস জাতীয় নানা গাছ। এছাড়া ভবনের প্রাচীরের বাইরে এবং ভিতরে রয়েছে নানা রকম সবুজ ছায়াঘেরা বৃক্ষ।
ভবন জুড়ে সারি সারি এসব বৃক্ষের দৃশ্য দেখে শহরের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ও সেবা গ্রহীতারা পৌরসভায় এসে উৎফুল্ল প্রকাশ করছে।
এ বিষয়ে শহরের নয়নী বাজার মহল্লার কাজী মাসুম জানায়, পৌরসভার মনমুগ্ধকর পরিবেশ বিশেষ করে নানা প্রজাতির গাছ এবং ছাদ বাগান দেখে খুবই ভালো লাগে। এমন পরিবেশে মনের ভিতর অনেক প্রশান্তি চলে আসে।
এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন 'গ্রীন ভয়েস' এর সাধারণ সম্পাদক মারুফুর রহমান বলেন, পৌর ভবনে পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধিই নয়, আমাদেরকে অক্সিজেনও দিচ্ছে। এমনিতেই চার দেয়ালের ভেতর কিছুটা হলেও অক্সিজেন স্বল্পতা থাকে, তবে এই পরিবেশবান্ধব বাহারি বৃক্ষের জন্য সেই অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ হচ্ছে। আমি এজন্য পৌর প্রশাসকসহ সকল পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানাই।
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, আমি পৌরসভার দায়িত্ব পাওয়ার পর ছোট পরিসরে থাকা পুরোনো বাগানটিকে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেই। পৌরসভার সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাগানটি বর্তমান রূপ পেয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা আরো উৎসাহিত হয়েছি। দর্শনার্থীদের জন্য বাগানটি উন্মুক্ত রয়েছে। এছাড়া পৌর ভবনের ভেতর-বাহির-বারান্দা সব জায়গায় গ্রিনহাউস করার পরিকল্পনা নিয়ে এসব গাছ রাখা হয়েছে। যেন এই সবুজায়ন দেখে পৌরবাসী এবং সেবাগ্রহীতারাও উদ্বুদ্ধ হয় তাদের নিজ নিজ স্থানে এরকম সবুজায়ন করার।




_medium_1787027123.jpg)
_medium_1787026985.jpg)
_medium_1787025991.jpg)
