জামালপুরে স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা
মো: খোরশেদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৪ রাত

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জামালপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সম্মানে এক আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ) দুপুর ১২টায় জামালপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের পদচারণায় এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যেখানে স্বাধীনতার স্মৃতি ও গৌরবময় ইতিহাস যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইউসুপ আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শাহ্ মোঃ ওয়ারেছ আলী মামুন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতির গর্ব। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে হলে আমাদের সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, যাতে তারা দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।”
অনুষ্ঠানে মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সিরাজুল হক, যিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার এবং সাবেক উপমন্ত্রী (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন এবং বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”
বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছাঃ ফারহানা ইয়াসমিন এবং সিভিল সার্জন ডা: মো: আজিজুল হক। তারা তাদের বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় এবং তাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল আবেগ, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার এক অনন্য মেলবন্ধন। বক্তারা একযোগে বলেন, স্বাধীনতার এই অর্জন কোনোদিন বিস্মৃত হওয়ার নয়। দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানের শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।







