মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম

পূর্বধলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, বিপাকে পড়েছেন বাইকচালকরা


  মো: জায়েজুল ইসলাম

প্রকাশ :  ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৯ রাত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে পেট্রোল-অকটেন চালিত যানবাহন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চালকরা। ফলে ঈদ পরবর্তী আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যাওয়া কিংবা ঘোরাঘুরির আনন্দ অনেকেরই মাটি হয়ে গেছে। এছাড়া ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতেও সমস্যায় পড়ছেন অনেকেই।

ভিযোগ রয়েছে, কিছু পাম্প মালিক সংকটের সুযোগ নিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রি করছেন, আর সেই খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ চালকরা। তবে পাম্প মালিকদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এ সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলার আতকাপাড়া মেসার্স গিরিপথ ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চালকরা পেট্রোল নিতে এসে ভিড় করছেন। কিন্তু পাম্পে পেট্রোল বা অকটেন নেই বলে জানানো হচ্ছে। এতে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ধোবাউড়া থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে সিলেট কর্মস্থলে ফিরছিলেন তারিফ খান। পূর্বধলায় এসে পেট্রোল শেষ হয়ে গেলে তিনি পাম্পে এসে দুই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন, কিন্তু পেট্রোল না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। তিনি জানান, এখন না পারছেন বাড়ি ফিরতে, না পারছেন কর্মস্থলে যেতে।

আনোয়ারুল ইসলাম নামের আরেক মোটরসাইকেল চালক স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে তেলের অভাবে পাম্পে এসে আটকা পড়েন।

আরেক চালক মো. কালাম মিয়া বলেন, রাস্তায় তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেল রেখে ট্যাংকি নিয়ে দুই লিটার পেট্রোল কিনতে এসেছেন, কিন্তু পাননি।

সুমন নামের এক চালক জানান, তিনি আধা লিটার পেট্রোল ১৫০ টাকা দিয়ে বোতলে করে কিনেছেন উপজেলার চৌরাস্তা ইলাশপুর এলাকার এক দোকান থেকে। এ রকম অনেক চালক পেট্রোল-অকটেনের অভাবে রাস্তায় পড়েছেন বিপাকে। অনেকেই জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতেও পারছেন না।

জারিয়া-ময়মনসিংহ সড়কের পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চারটি তেলের পাম্প রয়েছে। এগুলো হলো আতকাপাড়া মেসার্স গিরিপথ ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার, শ্যামগঞ্জ এলাকার জমজম ফিলিং স্টেশন, মেসার্স পূর্বধলা ফিলিং স্টেশন এবং ইলাশপুর চৌরাস্তা ফিলিং স্টেশন। এর মধ্যে ইলাশপুর চৌরাস্তার পাম্পটি ঈদের পর থেকেই তেলের সংকট দেখিয়ে বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের নিজস্ব পাম্প না থাকায় বরাদ্দকৃত ডিজেল-পেট্রোল ট্যাংক, ড্রাম ও বোতলে ভরে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে।

গিরিপথ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. হাসান জানান, বর্তমানে পেট্রোল ও অকটেন মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার লিটার চাহিদা রয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী অকটেন প্রতি লিটার ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা ৯০ পয়সা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কেউ কেউ মোটরসাইকেলের ট্যাংকে তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান বলেন, পেট্রোল-অকটেনের সংকটে কেউ যাতে বেশি দাম নিতে না পারে সেজন্য প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।



  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত