বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম

এক কর্মকর্তার কাঁধে তিন উপজেলা, পূর্বধলায় মহিলা বিষয়ক অফিসে সেবা ব্যাহত


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪১ দুপুর

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একজন কর্মকর্তাকে একসাথে তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন ভাতা ও মা-শিশু সহায়তা কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা সদর উপজেলার প্রোগ্রাম অফিসার শারমীন শাহজাদী বর্তমানে নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি পূর্বধলা ও মদন উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিনি সপ্তাহে মাত্র এক থেকে দুই দিন পূর্বধলা অফিসে উপস্থিত থাকতে পারেন। এতে জরুরি ফাইল অনুমোদন, ভাতা সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অফিসের কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের জন্য নেত্রকোনা সদরে গিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি স্থানীয় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীদের তালিকায় অনিয়মের কারণে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও সরেজমিন যাচাই না হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে ভাতাভোগীর অজান্তেই অন্য কেউ তার নামে টাকা উত্তোলন করছে।

ভুক্তভোগী নারীরা জানান, প্রয়োজনীয় কাজের জন্য অফিসে এসে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় কর্মকর্তা না থাকায় ফাইল জমা দিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। 

অফিসের কর্মচারীরা জানান, কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে সীমিত ক্ষমতা নিয়ে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে ওটিপি যাচাই বা কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন না থাকায় সেবা দিতে দেরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রৌফ সরকার বলেন, জেলায় জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। পুরো জেলায় মাত্র চারজন কর্মকর্তা দিয়ে একাধিক উপজেলার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। শূন্য পদ পূরণের জন্য অধিদপ্তরে বারবার জানানো হয়েছে, তবে নতুন নিয়োগ কবে হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জনবল নিয়োগ না দিলে মাতৃত্বকালীন ভাতা ও নারী উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা কার্যক্রম আরও ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত