শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম

পূর্বধলায় কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে ভোগান্তি, দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ


  মো: জায়েজুল ইসলাম

প্রকাশ :  ২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৮ রাত

নেত্রকোনার পূর্বধলায় কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকা ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে এমনটা হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। আবার এই সংকটকে পুঁজি করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দ্বিগুণ টাকা আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে পূর্বধলা রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে ঢাকাগামী একমাত্র বেসরকারি ট্রেন বলাকা’র যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। এসব যাত্রীদের অধিকাংশই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবেন। এসব যাত্রীদের ট্রেনের টিকেটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই টিকেট সংগ্রহ করতে পারেননি। যারা বহু কষ্টে সংগ্রহ করেছেন তারা যেন সোনার হরিণ হাতে পেয়েছেন। এই স্টেশন কাউন্টার থেকে কমলাপুর রেল স্টেশন পর্যন্ত টিকেটের নির্ধারিত দাম ৯৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করে পরবর্তীতে যাত্রীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ শোনা যায়।

ডেইলি স্টার পত্রিকায় কাজ করেন পূর্বধলা উপজেলার পানিশা গ্রামের সেতু নামের এক ব্যক্তি। তিনি পরিবারের ৪ জন সদস্য নিয়ে ঢাকায় ফিরবেন। টিকেটের জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত না পেয়ে ভিড়ের চাপে ট্রেনে উঠতে পারবেন না ভেবে সড়ক পথে রওনা দেন। ট্রেন জারিয়া ঝানজাইল থেকে ছেড়ে পূর্বধলা স্টেশনে আসলে দেখা যায় ট্রেনের ভিতর তিল ধারণের ঠাঁই নেই। অনেক কষ্ট করে কিছু যাত্রীদের উঠতে দেখা গেলেও বেশিরভাগ যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারেননি।

বলাকা কমিউটার ট্রেনের টিকেট বিক্রির কাজে নিয়োজিত আছেন মো: আল মামুন। তিনি জানান পূর্বধলা স্টেশন থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এই ট্রেনে ৯৫টি টিকেট বরাদ্দ আছে। তাই যাত্রীদের দাবি ঈদের সময় অন্তত বগি বাড়িয়ে সিট সংখ্যা বৃদ্ধি করা। এছাড়াও এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জারিয়া ঝানজাইল থেকে ঢাকা কমলাপুর পর্যন্ত একটি আন্তঃনগর ট্রেনের দাবি করে আসলেও সে দাবি পূরণ হচ্ছে না।

এদিকে ঈদের ৭ দিন পেরিয়ে গেলেও সড়ক পথে যাত্রীদের হয়রানি কমছে না। যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ হারে টাকা আদায়ের অভিযোগ আসছে। পূর্বধলা থানা রোড সিএনজি চালিত অটো রিকশা স্টেশনে গেলে আন্দা গ্রামের হাবিবুল ও সাইফুল দুই ভাই অভিযোগ করে বলেন, তাদের কাছ থেকে পূর্বধলা থেকে ময়মনসিংহ ব্রিজ পর্যন্ত ১০০ টাকার স্থলে ২০০ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

ভাড়া আদায়কারীরা অভিযোগ স্বীকার করে বলেন ফিরতি পথে যাত্রী না পাওয়ায় ভাড়া কিছু বেশি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে পূর্বধলার শ্যামল ও হোগলা থেকে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসের টিকেটের দাম বিভিন্ন কাউন্টার থেকে দ্বিগুণ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকার যাত্রী মো: শরিফ খান জানান, জামতলা কাউন্টার থেকে ঢাকা মহাখালী পর্যন্ত ৩৫০ টাকার স্থলে ৬০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করা হলে টিকেট নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে পূর্বধলা বাজারের বাস টিকেট কাউন্টারে কর্মরত টিকেট বিক্রেতাদের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। যাত্রীদের অভিযোগ টিকেট বিক্রেতাদের অধিক টাকার লোভ ও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এমনটি করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তঃনগর ট্রেনের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, পূর্বধলাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ঢাকা কমলাপুর থেকে পূর্বধলার জারিয়া ঝানজাইল পর্যন্ত একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর জন্য ইতোমধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছেন। তিনি আশ্বস্ত করেছেন। এই লাইনে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত