শেরপুরের নকলায় ছাগলে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে লঙ্কা কান্ড!
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩০ দুপুর

শেরপুরের নকলা উপজেলার টালকি ইউনিয়নের বিবির চর গ্রামে ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে লঙ্কাকাণ্ড ঘটেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলায় বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খোরশেদুজ্জামান এর ছেলে তাইয়ার শৈবাল গুরুতর আহত হয়েছে। একই সাথে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২২ ফেব্রুয়ারি রোববার রাতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪-৫ দিন আগে নকলা উপজেলার টালকি ইউনিয়নের বিবির চর গ্রামে আনার নামে এক যুবকের ছাগল পার্শ্ববর্তী আশরাফ আলীর ক্ষেতে ঘাস খেতে যায়। এ সময় আশরাফ আলী ছাগল কেন তার ক্ষেতের ঘাস খেলো এই অভিযোগ এনে আনারকে চর থাপ্পড় দেন। পরে এ ঘটনায় আনার আশরাফ আলী বাড়িতে গিয়ে তার ভাইদেরকে তাকে চড় থাপ্পর মারার বিষয়ে অভিযোগ দেন। এই ঘটনার জের ধরে দুই পক্ষের উত্তেজনা বিরাজ করে আসছিল। তবে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে থামিয়ে রাখছিলেন সালিশ বিচারের আশ্বাস দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘ ৪-৫ দিনেও এর বিচার সালিশ না হওয়ায় ২২ ফেব্রুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় বিবির চর বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এদিকে এ উত্তেজনা খবর পেয়ে বিএনপি নেতা খোরশেদুজ্জামানের ছেলে জাফর তাইয়ার শৈবাল বাজারে গিয়ে দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে দুই পক্ষই লাঠি সোটা নিয়ে হামলা চালালে শৈবালের মাথায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাঠির আঘাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হয়। পড়ে থাকে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয় এবং তার মাথায় ১১ টি সেলাই দেয়া হয়েছে।
এদিকে এই গোলযোগ আরো বড় হয়ে তারাবির নামাজের পরে বাজারের আশপাশে বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় আশরাফুল, বিবির চর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক এবং আইসিটি শিক্ষক আব্দুর রব মোঃ রায়হান হোসেন এর বাড়ির টিনের বেড়া ও ঘর দরজা ভাঙচুর করে বাড়ির ভেতরে আসবাবপত্র তছনছ করা হয়।
এ বিষয়ে আইসিটি শিক্ষক আব্দুর রব মোঃ রায়হান হোসেন বলেন, ঘটনার সময় বিএনপি নেতা খোরশেদুজ্জামান এর ছেলে শৈবালের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে তার বাবাকে আমাদের মাদ্রাসায় সভাপতি করার চাপ দেয়ার জন্য। একই সাথে ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের উত্তেজনার বিষয় নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে শৈবালকে পেছন থেকে কে বা কারা আঘাত করে চলে যায়। এরপর গভীর রাতে অনেকগুলো মোটরসাইকেল নিয়ে এসে কে বা কারা আমার এবং আমার কলেজের প্রিন্সিপাল এবং আশরাফ নামের এক ব্যক্তির ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। ঘটনাটি যেহেতু নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তাই আমরা আপাতত মামলা মোকদ্দমায় না গিয়ে বিষয়টি আপস রফার মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে আহত শৈবাল এর বাবা বিএনপি নেতা খোরশেদুজ্জামান বলেন, ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনাটি মূলত ছাগলের ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে। এখানে আমার সভাপতি পদ নিয়ে কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ৪/৫ দিন আগে আমাদের গ্রামে আনার এবং আশরাফুলের সাথে ছাগলের ঘাস খাওয়ানোর কেন্দ্র করে চড় থাপ্পড় ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি আপস রফা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত আপস না হওয়ার কারণে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে সোমবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর বিবির চর বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে আমার ছেলে তাদেরকে থামাতে যায়। ওই সময় কে বা কারা আমার ছেলের মাথায় আঘাত করলে গুরুতর আহত হয়। তবে বিষয়টি যেহেতু এলাকার মধ্যে এবং অজ্ঞাত ব্যক্তির আঘাত তাই এ বিষয়ে আমি কোন অভিযোগ করছি না। আমরা চাচ্ছি বিষয়টি মিটমাটের।
এ বিষয়ে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, রিপন চন্দ্র গোপ জানায়, বিবির চরের কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের খবর পেয়েছি তবে এখনো কোনো মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ পাইনি।







