পূর্বধলায় এমপির গাড়ি ভাঙচুর মামলায় দুই ছাত্রদল নেতাসহ আরও ৩ জন ডিবির হাতে গ্রেপ্তার
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৮ দুপুর

নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আরও তিনজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান কবির পাপ্পু এবং পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি আইয়ুব আলী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই ঐ দিন রাতেই পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে পরদিন রোববার (২৬ এপ্রিল) আদালত ওই ৯ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।
এদিকে, গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি উপজেলা শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান কবির পাপ্পু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবুসহ সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবা (২৪ এপ্রিল) বিকেলে একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে নামেন এমপি মাসুম মোস্তফা। এ সময় ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে আসা একদল যুবক পাম্পে হট্টগোল সৃষ্টি করে এবং তার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে এমপি নামাজ শেষে বের হলে তাকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতা বাবুল আলম তালুকদার, ইউএনও ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
তবে মামলার প্রধান আসামি আবু তাহের তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন এবং এটি তার ও দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে পূর্বধলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপি। লিখিত বক্তব্যে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদারসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে এমপির সহকারীর সঙ্গে স্থানীয়দের কথা-কাটাকাটি থেকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং পরে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার পর বিএনপির নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলন থেকে মামলাটি প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়।



_medium_1777273084.jpg)



