সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলার আরিফ খান পেলেন দেশ সেরা এওয়ার্ড অফ এক্সিলেন্স পুরস্কার


  মো: জায়েজুল ইসলাম

প্রকাশ :  ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১২ বিকাল

গবেষণা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তরুণ প্রযুক্তিবিদ নেত্রকোণার পূর্বধলার মো: আরিফ খান এওয়ার্ড অফ এক্সিলেন্স পুরস্কারে ভুষিত হয়েছেন। একইদিনে আরও ৮ তরুণ প্রযুক্তিবিদ একই পুরস্কারে ভুষিত হন। তারা হলেন প্রযুক্তিবিদ ড. মোঃ মাহবুব হাসান, ড. শিপন দাশ গুপ্ত, সেজান রহমান, উজ্জ্বল হোসেন, ড. রাসেল দাশ, ড. সাইদ আনোয়ার, ড. মীর মুবাশির খালিদ, ড. জান্নাতুল ফেরদৌস পাপড়ি দেশ সেরা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয় ফারিহা আহমেদ রাইসা, ইয়াসিন রহমান, মুহাইমিনুর রহমান, তাহিয়া আকতার তান্মি, মামুনুজ্জামান। এ সময় তাদের সম্মাননা স্বরুপ ক্রেস্ট তোলে দেওয়া হয়।  মো: আরিফ খানের বাড়ি নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের আগিয়া গ্রামে । তিনি মহাখালী আইইডিসিআর এ জুনেটিক ডিজিজ রিসার্স প্রোগ্রামে গবেষনা কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত সফলতার সাথে কাজ করে আসছেন।     

 

আন্তর্জাতিক ডিএনএ দিবস উপলক্ষে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) ‘ফিউচার বায়োটেক সামিট’ এবং ‘৬ষ্ঠ আন্তর্জাতিক ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস কংগ্রেস ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তাদের এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে নেটওয়ার্ক অব ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস অব বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে নানা কর্মসুচী পালিত হয়। উক্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জীবপ্রযুক্তি, জিনোমিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণার সমন্বিত ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করা হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “ওমিক্স অ্যান্ড এআই”, যেখানে আধুনিক বায়োটেকনোলজি ও এআই-এর সমন্বিত প্রয়োগ, গবেষণার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং বৈশ্বিক উদ্ভাবন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজনে মাইক্রোবিয়াল জিনোমিক্স, মানব জেনেটিক্স, সংক্রামক রোগবিজ্ঞান, প্রিসিশন মেডিসিন এবং এআই-নির্ভর বায়োটেকনোলজির মতো সমসাময়িক বিষয়গুলো উঠে আসে। এতে অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা এতে অংশগ্রহণ করেন, যা সম্মেলনটিকে একটি বহুজাতিক জ্ঞান বিনিময় ও গবেষণা সহযোগিতার মঞ্চে পরিণত করে। প্রায় ৭৫০ জন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, গবেষক, তরুণ শিক্ষক ও উদ্যোক্তা দেশের ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্টার্টআপ থেকে এতে অংশ নেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. সায়েমা হক বিদিশা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ এবং অ্যারিস্টোফার্মার পরিচালক সাদমান শাহরিয়ার হাসান। মুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান। সঞ্চালক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মুশতাক ইবনে আইয়ুব ও প্রফেসর ড. মাহবুবুর রশীদ। সবশেষে সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বায়োটেকনোলজির গুরুত্ব তুলে ধরে বায়োটেকনোলজি বিষয়ক বিজনেসের বিভিন্ন পরিকল্পনা দেন এবং এই বিজনেস বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজিম আখন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঝউএ বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক প্রফেসর ড. এস. এম. আবদুল আওয়াল। সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ বায়োটেকনোলজির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সগির আহমেদ। 
সমাপনী অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বায়োটেকনোলজি ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সগীর আহমেদ। আয়োজকরা মনে করেন, এই সম্মেলন বাংলাদেশের বায়োটেকনোলজি খাতে নতুন গবেষণা দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং জিনোমিক্স ও এআই-নির্ভর বায়োইনোভেশনের মাধ্যমে দেশকে একটি উদীয়মান বৈশ্বিক বায়োটেক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত