বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম

হামের টিকা সংকট: জনবল, নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার মিলনমেলা


  এ কে এম আজিজুর রহমান

প্রকাশ :  ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৮ রাত

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের সফল টিকাদান কর্মসূচির এই বিপর্যয়ের পেছনে  সুশাসনের অভাব ও একাধিক স্তরের ব্যর্থতা দায়ী।

নীতিগত ব্যর্থতা: গত আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত সরকার—উভয় সময়েই টিকা আমদানি বন্ধ ছিল। ২০২৫ সালে সুপ্রতিষ্ঠিত টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া (HPNSP) বাতিল করে জটিল দরপত্র পদ্ধতি চালু করা হয়। টিকা কেনার বাজেট উন্নয়ন থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করায় অর্থ ছাড়াতে মাসের পর মাস লেগে যায়। ইউনিসেফের সহায়তা সত্ত্বেও সময়মতো তহবিল না ছাড়ার কারণে টিকার মজুত শেষ হয়ে যায়।

জনবল সংকট: শুধু টিকার অভাব নয়, টিকা পৌঁছে দেওয়ার কর্মীও ছিল না। ৩৭টি জেলায় মাঠপর্যায়ের ৪৫ শতাংশ পদ শূন্য। টিকা বহনকারী ১ হাজার ৩২৬ জন পোর্টার ৯ মাস ধরে বিনা বেতনে কাজ করেছেন। বেতন বঞ্চনায় তারা একাধিকবার ধর্মঘটে গেলে টিকাদান কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা: শেষবার জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন হয়েছিল ২০২০ সালে। ২০২৪ সালের ক্যাম্পেইন রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাতিল হয়ে যায়। ফলম্নে প্রায় পাঁচ বছর ধরে বিরাট এক 'অনাক্রম্যতার শূন্যতা' তৈরি হয়। সংকট মোকাবিলায় প্রশাসন ছিল নিষ্ক্রিয়। প্রাথমিক সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়।

বর্তমান উদ্যোগ: সরকার ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে ১৮ জেলায় ১২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই বিপর্যয় প্রমাণ করে, জনস্বাস্থ্যকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত