বিউটি অব ঝিনাইগাতীর আয়োজনে মৃৎশিল্পী কারিগর সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠিত
মনিরুজ্জামান মনির, ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ বিকাল

হাতের ছোঁয়ায় গড়ি ঐতিহ্য, শিল্পীর মর্যাদায় গড়ি সমৃদ্ধি, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প সংরক্ষণ, মৃৎশিল্পীদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিউটি অব ঝিনাইগাতী। সংগঠনটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মৃৎশিল্পী কারিগর সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে উপজেলার ১৪টি মৃৎশিল্পী কারিগর পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সম্প্রতি উপজেলার আপন শিক্ষা পরিবার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে গাজীপুর ইউনাইটেড কলেজের প্রভাষক ও পরিচালক আমিনুল ইসলাম শামিম-এর সভাপতিত্বে এবং হাসান মাহমুদ (রনি)-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব শফিউদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সরোয়ার আলম। এছাড়াও বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিক, হেলাল উদ্দিন, হাফেজ মাওলানা ফয়জুল হাসান, আপন শিক্ষা পরিবারের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী সহ শেরপুর প্রেসক্লাবের গণমাধ্যমকর্মী এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, মৃৎশিল্প বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক সময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি ঘরে মাটির তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্র, কলস, হাঁড়ি-পাতিল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যবহৃত হতো। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিকল্প উপকরণের ব্যবহারের কারণে বর্তমানে এ শিল্পের চাহিদা কমে গেছে। ফলে মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এ অবস্থায় ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা।
আপন শিক্ষা পরিবারের প্রধান শিক্ষক রহমত আলী বলেন,মৃৎশিল্পীরা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প নতুনভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে। বক্তারা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে বিউটি অব ঝিনাইগাতী সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এমন ব্যাতিক্রমি আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিউটি অব ঝিনাইগাতীর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রুলেন সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, মৃৎশিল্প আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এ শিল্প দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় প্রায় সব বাড়িতেই মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করা হতো, যা এখন খুবই সীমিত। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের সম্মান জানানো এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের অবদান তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই আমাদের এই আয়োজন। বিউটি অব ঝিনাইগাতী ভবিষ্যতেও ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া মৃৎশিল্পী পরিবারের সদস্যরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এমন স্বীকৃতি তাদের কাজের প্রতি নতুন উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং ভবিষ্যতে এ পেশার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে উপজেলার ১৪টি মৃৎশিল্পী কারিগর পরিবারের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিউটি অব ঝিনাইগাতীর পরিচালকবৃন্দ, সংগঠনের বিভিন্ন সদস্য, আপন শিক্ষা পরিবারের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন মৃৎশিল্পীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এ শিল্পের ইতিহাস, গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তুলে ধরতে সহায়তা করবে।




_medium_1780670909.jpg)


