সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম

সুরমা চা বাগানে মজুরি বন্ধ: মানবিক সংকটে শ্রমিকরা, পাশে এমপি পুত্র


  মো: মহিউদ্দিন আহাম্মেদ

প্রকাশ :  ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ বিকাল

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দেশের অন্যতম বৃহৎ সুরমা চা বাগানে টানা চার সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরি (তলব) বন্ধ থাকায় চরম মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২,২০০ শ্রমিক পরিবারসহ কয়েক হাজার মানুষ বর্তমানে অনিশ্চয়তা ও অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এক সময় যেখানে প্রতিদিন সকালে শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকত বাগান এলাকা, সেখানে এখন নেমে এসেছে নীরবতা। কাজ নেই, আয় নেই-শ্রমিকদের চোখেমুখে স্পষ্ট হতাশা ও দুশ্চিন্তার ছাপ।

চা বাগানের শ্রমিকদের জীবন মূলত সাপ্তাহিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল। সপ্তাহ শেষে পাওয়া সামান্য আয় দিয়েই তারা পরিবার চালাতেন। সেই আয়ের ওপরই নির্ভর করত খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ। কিন্তু টানা চার সপ্তাহ মজুরি বন্ধ থাকায় তাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা। অনেক পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট, বাজারে যাওয়ার সামর্থ্যও হারিয়েছেন অধিকাংশ শ্রমিক। পুরো বাগান এলাকায় এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে, যা স্থানীয়দের মতে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি করছে।

বাগানের শ্রমিক গোপেশ ভুমিজ বলেন, “আগে সপ্তাহ শেষে মজুরি পেলে পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারতাম। এখন কাজও নেই, আয়ও নেই—কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না।”

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সলের পুত্র এবং সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শ্রমিকদের জন্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে চারটি টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য আরও ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেন।

শ্রমিক নেতা প্রদীপ কৈরি বলেন, “হঠাৎ করে বাগানের এমন পরিস্থিতিতে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। প্রায় ২,২০০ শ্রমিক পরিবার এখন দিশেহারা। আমরা চাই দ্রুত বাগান চালু হোক এবং শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি ফিরে পাক। এই দুঃসময়ে প্রাপ্ত সহায়তা আমাদের জন্য বড় স্বস্তি।”

সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের শ্রমের ওপর নির্ভর করেই জীবনযাপন করেন। তাদের এই দুর্দশা দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাগানের সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। এতে শ্রমিক ও মালিক—উভয়েরই মঙ্গল হবে। আমরা শ্রমিকদের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”

এদিকে বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। বাগানের ম্যানেজার বাবুল সরকার বলেন, “শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে দ্রুত বাগান চালু করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। মালিকপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই একটি সমাধান আসবে।”

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত