হৃদয় যেখানে অসহায় জনগোষ্ঠীর নিরাপদ নিবাস
শাহীন আহমেদ
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৭ বিকাল
একটি মানবিক হৃদয় যেখানে প্রতিনিয়ত স্থান পায় অসহায় মানুষের আর্তনাদ, আশাহীনের স্বপ্ন আর অধিকারহীন মানুষের সংগ্রামের গল্প। যে হৃদয় শুধু অনুভবই করে না, বরং সমাধানের কথা বলে, সিদ্ধান্ত নেয় মানবিকতার আলোকে। এমন এক হৃদয়ের অধিকারী চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তার মানবিকতার গল্প আজ দেশজুড়ে প্রশংসিত। প্রশাসনের এই কর্মকর্তাকে মানুষ আজ দেখছে মানবতার কান্ডারী হিসেবে। সমাজের বেশির ভাগ মানুষ যখন নিজের স্বার্থ নিয়ে আবর্তিত তখন তিনি সত্যিই এক ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। এমন প্রশাসককেই তো দেশ চায়।

তার দরজায় আজ মানুষের ভীড়। চিন্তা, সংশয় ভুলে সকলের মুখে প্রশান্তির ছায়া। তিনি সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিচ্ছেন। অবহেলিত মানুষের মূখে হাসি, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা, প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার, দরিদ্র মেধাবীর পাশে দাঁড়ানো, দায়গ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিয়ের ব্যবস্থা অসহায় পরিবারে নিয়ে এসেছে স্বস্তির পরশ।

জেলা প্রশাসক হিসেবে শীতের রাতে কম্বল নিয়ে জেলে পল্লিতে, ফল-মুল নিয়ে বৃদ্ধাশ্রমে আবার ঈদের পোশাক আর নতুন টাকা নিয়ে পির্তৃমাতৃহীনদের আবাসে। অসহায় শ্রমিকদের ঈদের বেতন ভাতা নিশ্চিত করতে মালিকের মেশিন বিক্রী। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। শতবর্শী আমড়া বিক্রেতার প্রতি তার সহযোগীর হাত দেশের মানুষের মনে দাগ কেটেছিল। জাহিদুল ইসলাম মিঞা আজ অসহায় মানুষের কণ্ঠস্বর, অনুপ্রেরণা ও ভরসার প্রতীক।

একটি সুন্দর সমাজ গড়তে হলে প্রয়োজন মানবতা। শব্দটি ছোট হলেও এর গভীরতা সমুদ্রের চেয়েও বিস্তৃত। মানবতা মানে নিঃস্বার্থ মানসিকতায় অপরের কল্যাণে নিজের স্বার্থ বিসর্জন দেয়া। যেখানে প্রকৃত মনুষ্যত্ব বিদ্যমান। বর্তমান সমাজে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হলেও, কিছু মানুষ আছেন যারা তাদের কর্মের মধ্য দিয়েই অমর হয়ে থাকেন। জাহিদুল ইসলাম মিঞা তেমনই একজন।

তিনি সদা হাস্যোজ্জ্বল, পরোপকারী এবং কর্মঠ। পথশিশু, টোকাই, চিকিৎসা, শিক্ষা, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের অভাবে থাকা মানুষের জন্য তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তার চিন্তা-চেতনা ও অনুভূতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানবতা। তিনি সবার কথা শোনেন, সবার পাশে থাকেন, কাউকে নিরাশ করেন না।
তার অবিরাম পরিশ্রম ও দেশপ্রেম মানুষকে মুগ্ধ করে। তার হৃদয়ের গভীরে থাকা ভালোবাসা যেন অন্যদেরও ভালোবাসতে শেখায়। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা, কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি ও সমাজকর্মীদের জন্য তিনি এক অনন্য উদাহরণ।

অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোতেই তিনি খুঁজে পান নিজের সুখ। হতাশার সাগরে ডুবে থাকা মানুষদের জন্য তিনি যেন আশার আলো। সাহস, দৃঢ়তা ও মানবিক প্রেমে তিনি এক অনন্য প্রতিমূর্তি।
সময়ের বাধা তাকে থামাতে পারেনি। তার অন্তর নিহিত পরিকল্পনা ও মানবিক চিন্তাধারা তাকে সব সময় মানুষের কাছাকাছি রেখেছে। তার মনের সৌন্দর্য ও হৃদয়ের গভীরতা মানবতাহীন সমাজের বিপরীতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি যেন মানবিক বাংলাদেশের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তার প্রতিটি কর্মকান্ড স্মরণীয়, তার আচরণ ও হৃদয়ের দীপ্তি বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে বহু গুণ মূল্যবান। মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা একটি নতুন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখায়।
জাহিদুল ইসলাম মিঞা একটি নাম নয়, এক অনুপ্রেরণা। তার জীবন এক অমূল্য কাব্য, যার প্রতিটি পঙক্তিতে লেখা আছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার গল্প। তার প্রশাসনিক দপ্তর শুধু একটি অফিস নয়, বরং অসহায় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল।




_original_1757748225_medium_1774076980.jpg)
