রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম

দ্বীনের খেদমতে অনন্য দৃষ্টান্ত: বিনা পারিশ্রমিকে ওয়াজ করবেন পূর্বধলার তরুণ আলেম মাওলানা আবু তাহের


  আরবান ডেস্ক

প্রকাশ :  ২৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৩ দুপুর

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় দ্বীনের খেদমতে এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ আলেম মাওলানা আবু তাহের। বর্তমান সময়ে ধর্মীয় মাহফিল আয়োজন করতে গিয়ে আয়োজক কমিটিকে যেখানে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়তে হয়—বিশেষ করে বক্তাদের উচ্চ পারিশ্রমিকের কারণে—সেখানে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি।

জানা গেছে, প্রখ্যাত আলেম আল্লামা গহরপুরী (রহ.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মাওলানা আবু তাহের ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে তিনি নিজ এলাকা ও আশপাশের যেকোনো দ্বীনি মাহফিলে সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে ওয়াজ ও নসিহত পেশ করবেন। তার এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মাওলানা আবু তাহের বলেন, “আমি অতি ক্ষুদ্র একজন মানুষ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে দ্বীনি জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়াই আমার মূল লক্ষ্য। এই কাজের বিনিময়ে আমি কোনো প্রকার পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে চাই না। আয়োজক কমিটিকে আমাকে একটি টাকাও দিতে হবে না, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও জানান, ২০১১ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত তিনি কোনো মাহফিল বা ধর্মীয় কাজে কখনোই পারিশ্রমিক দাবি করেননি, যা তার আন্তরিকতা ও নিষ্ঠারই বহিঃপ্রকাশ।

সেবার আওতাভুক্ত এলাকা

প্রাথমিকভাবে নেত্রকোনার নারান্দিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আয়োজিত দ্বীনি মাহফিলে তিনি এই সেবা প্রদান করবেন। স্থানীয়ভাবে বিশেষ করে ১০ নং নারান্দিয়া ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে তার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

যোগাযোগ ও অনলাইন মাধ্যম

তার বক্তব্য ও ওয়াজের নমুনা দেখতে ইউটিউবে “Manjum TV মাওলানা আবু তাহের” লিখে সার্চ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
দ্বীনি প্রয়োজনে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে—
? মোবাইল/হোয়াটসঅ্যাপ/ইমো: ০১৭৬৩-৪৪০৪১৩
? ঠিকানা: ৫ নং ওয়ার্ড, ১০ নং নারান্দিয়া ইউনিয়ন, পূর্বধলা, নেত্রকোনা।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বর্তমান কার্যক্রম

মাওলানা আবু তাহের সিলেটের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুর থেকে মাওলানা (তাকমীল/মাস্টার্স সমমান) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ১৪৩২ হিজরী (২০১০-২০১১ খ্রিষ্টাব্দ) সালে সফলভাবে তার শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন।

বর্তমানে তিনি ভূগী উত্তর পাড়া জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ভূগী দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসা-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

সমাজে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

তার এই নিঃস্বার্থ ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় সমাজে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সময়ের বাণিজ্যিক প্রবণতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে মাওলানা আবু তাহেরের এই পদক্ষেপ অন্য বক্তা ও আলেমদের জন্য একটি শক্ত বার্তা বহন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উদ্যোগ দ্বীনের সঠিক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বোপরি, মাওলানা আবু তাহেরের এই উদ্যোগ কেবল একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়—এটি দ্বীনের খেদমতে এক আন্তরিক প্রয়াস, যা ভবিষ্যতে আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত