বাংলাদেশে শিশুদের হাম: নিয়ন্ত্রণহীন ঝুঁকির নতুন সংকেত
এ কে এম আজিজুর রহমান
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৯ দুপুর
_original_1757748225_medium_1773037639_original_1775365757.jpg)
২০২৬ সালের শুরুতেই বাংলাদেশে হাম রোগ আবার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের প্রথম তিন মাসেই আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজারের বেশি শিশু এবং মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৫০ জন। হাসপাতালগুলোতে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আক্রান্তদের অধিকাংশই খুব অল্প বয়সী শিশু। প্রায় ৬৯ শতাংশ শিশুর বয়স দুই বছরের নিচে, এমনকি অনেক শিশু ৬ মাস বয়সের আগেই আক্রান্ত হচ্ছে, যখন তারা টিকা নেওয়ার উপযুক্ত নয়। এতে বোঝা যাচ্ছে, মাতৃ-প্রদত্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা প্রত্যাশিত সুরক্ষা দিতে পারছে না।
এই পরিস্থিতির মূল কারণ টিকাদানের হার মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া। যেখানে ২০২৩ সালে টিকাদান ছিল ৯৩.৬%, তা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৫৯.৬%-এ—যা প্রয়োজনীয় ৯৫% থেকে অনেক কম। কোভিড-১৯ পরবর্তী বিঘ্ন, ক্যাচ-আপ কর্মসূচি বাতিল এবং প্রশাসনিক জটিলতা এই সংকটকে তীব্র করেছে।
বিশেষ করে বস্তি, পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একজন আক্রান্ত শিশু থেকে সহজেই ১৬–১৮ জনে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। পাশাপাশি তথ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সরকার ইতোমধ্যে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আরও আগে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তারা ৬ মাস বয়সে টিকার প্রথম ডোজ চালু করা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়োপযোগী টিকাদান, কার্যকর পরিকল্পনা এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে ‘হামমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়া সম্ভব। এখনই প্রশ্ন—আমরা কি দ্রুত পদক্ষেপ নেব, নাকি আরও ক্ষতির অপেক্ষায় থাকব?




_original_1757748225_medium_1774076980.jpg)
