শেরপুর-১ আসনে যে কারণে বিএনপির প্রিয়াঙ্কার ভরাডুবি
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৮ রাত
_original_1771088286.jpg)
ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ সদর আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন জামায়েতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। ভোটের অঙ্কে অনেক পিছিয়ে থাকলেও নিকটতম হয়েছে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের বহুল আলোচিত প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। হাফেজ রাশেদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট। আর ধানের শীষ প্রতীকের প্রিয়াংকা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট। অপরদিকে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভোট পেয়েছে ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট।
ভোটের অঙ্কে বিএনপি'র ধানের শীষ প্রতীকের এবং বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মোট ভোট হয় ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৭৫৭ ভোট। এ ক্ষেত্রে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হতো।
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ সদ্য বিলুপ্ত জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক এবং ইতিপূর্বে ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি ছিলেন। নির্বাচনের আগে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। যার ফলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তখন থেকেই দলের একটি মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল যে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদ নির্বাচনের মাঠে থাকলে ধানের শীষের প্রার্থী হয়তো জামায়াতের পার্থক্য আছে পরাজিত হবে। ভোট শেষে সেই শংকাই সত্য হলো।
এছাড়াও বিএনপির একটি অংশ দাবি করেছে, জামায়েত ইসলাম শেরপুর সদরের আওয়ামী লীগ সমর্থিত অসংখ্য ভোট টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে। যার ফলে তাদের এই ভোটের ব্যবধান। তারা কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে এ আসনে জামাত যে ভোট পেতো তা বিএনপির জোটে থাকার কারণে। বাস্তবে তাদের সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ভোট রয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক বিএনপি নেতা।
আবার জেলার একটি সচেতন মহল মনে করছে, এবার জামায়াতের ভোট বাড়ার কারণ হচ্ছে নতুন প্রজন্ম বা জেন-জি এবং নারী ভোটারদের তারা তাদের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন থেকেই নানা কৌশল অবলম্বন করে এসেছে। এছাড়া ২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও দলের অনেক শীর্ষ পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য করার অভিযোগের কারণে শেরপুর সদর আসনে ভোটের এই ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সচেতন মহল।
৪১ বছর পর শেরপুর ধানে শীষ প্রতীকের প্রার্থীর বিজয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও দলীয় গ্রুপিং এর কারণে এবং একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে শেরপুর সদর আসনটি এবারও হাতছাড়া হয়ে গেল বলে দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
কারণ এই নির্বাচনে জেলা বিএনপি'র প্রায় অর্ধেক নেতাকর্মী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মাসুদের পক্ষে কাজ করেছেন। এ কারণে কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে অনেক নেতা বিভিন্ন সময়ে বহিষ্কৃত হয়েছে। তারপরেও বিএনপির এই দুই প্রার্থীকে বা বিদ্রোহী প্রার্থীকে ম্যানেজ করা সম্ভব হয়নি বলে দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে মাহমুদুল হক মনি ৭৫১ ভোট, এনসিপির লিখন মিয়া শাপলাকলি প্রতীকে ৪৫৬ ভোট এবং আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক জাতীয় পার্টির নেতা মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন কাপ পিরিচ প্রতীকে ভোট পেয়েছে ২০৫ ভোট।

_medium_1771088881.jpg)




_medium_1771088286.jpg)
