নেত্রকোণা-৫ আসনের ফল বাতিল ও পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৪ দুপুর
_original_1771065161.jpg)
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬১, নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল ও সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পূর্বধলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু তাহের তালুকদার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে বিভিন্ন কেন্দ্রে অস্বাভাবিক হারে ভোট বাতিল, ফলাফল শিটে গড়মিল, ভোটগ্রহণে কৃত্রিম স্থবিরতা সৃষ্টি, জাল ভোট এবং সূক্ষ্ম কারচুপি সংঘটিত হয়েছে।

তিনি বলেন, মেঘশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-১০)-এ বিকাল ৩টার দিকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ বন্ধ করে বুথের বাইরে চলে যান। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে সীমিত সময়ের জন্য পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একই কেন্দ্রে ভোটারদের পরিচয় যাচাই ছাড়াই ব্যালট পেপার সরবরাহের অভিযোগও তোলেন তিনি।
আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-৭৯)-এ ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিএনপির এজেন্টকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে প্রশাসনের মাধ্যমে তাকে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া মেঘশিমুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-১৪)-এ পরিকল্পিতভাবে ছয়টির পরিবর্তে চারটি বুথ স্থাপন করায় দীর্ঘ লাইন তৈরি হয় এবং অনেক নারী ও বয়স্ক ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে যান বলে অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী।
তিনি আরও বলেন, মেঘশিমুল, দুধী, মনাকান্দা, কাপাসিয়া, কৈলাটী, বেড়াইল ও লেটিরকান্দা এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত ভোটারদের লাঠিচার্জ করে বের করে দেওয়া হয়েছে। জারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলেমানকে কেন্দ্র থেকে দূরে অবস্থানকালে আটক করে গাড়িতে ঘোরানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়, যা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৫৬৩। তবে বিএনপি প্রার্থীর দাবি, উল্লেখিত অনিয়ম না হলে এ ব্যবধান কাটিয়ে তাঁর বিজয় নিশ্চিত ছিল।
তিনি অভিযোগ করেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বার্তা শিটে প্রদর্শিত ফলাফলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলের অসংগতি রয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ফলাফল শিটে বাতিল ভোটের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৩৬১; পরবর্তীতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রকাশিত ফলাফলে তা ৩ হাজার ৩৪১ দেখানো হয়েছে।
কোনো কোনো কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা মোট ভোটারের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ফলাফল স্থগিত রেখে সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আবু তাহের তালুকদার বলেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজন হলে আইনগত ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী’র নেতাকর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আব্দুর রহিম তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান ফকির, সায়েদ আল মামুন শহীদ ফকির ও ইশতিয়াক আহমেদ বাবু।
এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তারা।







