বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে খাদ্য কর্মকর্তার অকথ্য গালিগালাজ


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ রাত

নেত্রকোনায় খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে সদ্য বদলি হওয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোয়েতাছেমুর রহমানের বিরুদ্ধে। দৈনিক আজকের পত্রিকার নেত্রকোনা প্রতিনিধি সাইফুল আরিফ জুয়েলকে ফোন করে তিনি ‘স্টুপিড’ বলাসহ অশালীন মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ফোনালাপের ঘটনা ঘটে বলে সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েল জানিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডও রয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও ধান সংগ্রহে অনিয়ম এবং একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ করে বিল দেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করে খাদ্য অধিদপ্তর। গত ৩১ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে নেত্রকোনা থেকে ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়।

এ ঘটনা নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েলের সঙ্গে মোয়েতাছেমুর রহমানের ফোনালাপ হয় বলে তিনি জানান। ফোনালাপে ওই কর্মকর্তা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, তার বদলির খবরের সঙ্গে খাদ্য গুদামের অনিয়মের খবর ও তার ছবি প্রকাশ করার কারণ কী।

অডিও রেকর্ডে ওই কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, “আমার নামটা জড়াইয়া নিউজটা করলেন, কী পাইলেন? আমার বদলি নরমাল ওয়েতে হইছে। আমার ছবিটা দিয়া নিউজটা করাতে আপনার কী প্রফিটটা হইছে?”

এ সময় সাংবাদিক জুয়েল সংবাদের কোথাও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বা আপত্তিকর কোনো তথ্য লেখা হয়েছে কি না জানতে চান। জবাবে কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে মন্দ কিছু লেখা হয়নি বলে স্বীকার করলেও বদলির খবরটি অনিয়মের সংবাদের সঙ্গে প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

একপর্যায়ে মোয়েতাছেমুর রহমান সাংবাদিককে ‘স্টুপিড’ বলাসহ অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন জুয়েল।

সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েল বলেন, “আমরা তথ্যবহুল এবং প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশ করেছি। সংবাদের কোনো তথ্য ভুল হলে তিনি পত্রিকা অফিসে প্রতিবাদ দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সাংবাদিককে গালিগালাজ করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “সংবাদে কোনো তথ্যগত ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে আইনি প্রতিকার নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অথচ তিনি ফোন করে যে আচরণ করেছেন, তা শিষ্টাচারবহির্ভূত।” এ ঘটনায় তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে মোয়েতাছেমুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ফোনালাপে সাংবাদিককে গালিগালাজের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “সাংবাদিক হিসেবে যে নিউজ করেছে-মানে, হয়তো আমি রাগের মাথায় বলছি। আন্দাজে নিউজ করা কি উচিত?”

পরে তাকে প্রশ্ন করা হয়, একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবাদ বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিককে ‘স্টুপিড’সহ অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা যায় কি না। এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এর আগে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, বিরিশিরি খাদ্য গুদাম পরিদর্শন ও নথিপত্র যাচাইয়ে কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন এবং ধান সংগ্রহে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ ও বিল পরিশোধের বিষয়টিও উঠে আসে। এ ঘটনায় গুদাম কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে, নিজের বদলি ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং এটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি-এমন বক্তব্য আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন মোয়েতাছেমুর রহমান।

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত