মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম

জামালপুর থেকে হারানো মা কে ফিরে পেলেন সন্তানেরা, ফিরে গেলেন তার আপন গৃহে


  মো: খোরশেদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ বিকাল

‎জামালপুরের দিগপাইতের অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় পাওয়া পরিচয়হীন সেই নারী অবশেষে নিজের সন্তানদের কোলে ফিরে গেছেন। তার নাম মোছাঃ রোকেয়া বেগম। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি গ্রামের মৃত. সানজব আলী ও আবচান বিবির কন্যা।

‎সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জামালপুরের দিগপাইত থেকে সন্তানরা গিয়ে তাদের মাকে উদ্ধার করে নিজ গৃহে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে দিগপাইত এলাকার স্থানীয় এক মানবাধিকার কর্মী এস এম জুয়েল রানা পরিচয়হীন এই নারীকে নিজের কাছে রেখে লালন-পালন ও দেখাশোনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি বিষয়টি নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ মকবুল হোসেন, এস আই মঞ্জুরুল হকের নজরে আসায় জামালপুর জেলার দিগপাইত এলাকার দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক, গনমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী মোঃ খোরশেদ আলমকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেন তৎক্ষণাৎ তিনি জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের আদর্শ বটতলা বাজারে গিয়ে বৃদ্ধ মহিলাটির খোঁজখবর নেন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থার সকল কর্মীদেরকে বিষয়টি অবগত করা হয়। মানবাধিকার কর্মী এস এম জুয়েল রানা তার দায়িত্ব নিতে চাইলে নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মকবুল হোসেন ও এস আই মঞ্জুরুল হকের সাথে আলোচনা করে গনমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী খোরশেদ আলম মানবাধিকার কর্মী জুয়েল রানাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং ‘জামালপুর ভয়েস’-এর সাংবাদিক এস আলম প্রথম বিষয়টির ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেন।

পরবর্তীতে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘অনলাইন সিলেট’-এ সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা রোকেয়া বেগমের সন্তানদের দৃষ্টিগোচর হয়। সংবাদ দেখে সন্তানেরা তাদের মা কে সনাক্ত করেন এবং জামালপুরের দিগপাইতে উপস্থিত হয়ে তাদের নিখোঁজ মাকে সাথে নিয়ে বাড়িতে ফিরেন।

মাকে ফিরে পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে তার সন্তান মনির “অনলাইন সিলেট” দিগপাইতের আশ্রয়দাতা এবং স্থানীয় গনমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী খোরশেদ আলমসহ সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার কারণেই তারা তাদের হারিয়ে যাওয়া মাকে এত দ্রুত ফিরে পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর পরিচয় সনাক্ত করতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি, সাংবাদিক খোরশেদ আলম, মানবাধিকার কর্মী আমানুল্লাহ আকাশ, আল বিল্লাল খান এবং এসএম জুয়েল রান'র সহায়তায় জামালপুর জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে রোকেয়া বেগমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। এ নিয়ে গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর জামালপুরে বিভিন্ন মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও বিভিন্ন পেইজে রোকেয়া বেগমের সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিলো, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় নারী কীভাবে নিজ এলাকা ছেড়ে এত দূরে এসে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানামুখী প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সচেতন মহল এই অমানবিক পরিস্থিতি বা তার নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে কোনো নির্যাতন কিংবা কোনো অপতৎপরতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের দ্রুত প্রচার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় একটি পরিবার তাদের হারানো স্বজনকে ফিরে পাওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

অবশেষে আপন ঠিকনায় পৌঁছলেন রোকেয়া বেগম। তার সন্তানেরা জামালপুরে পৌঁছে মা’কে নিয়ে ফিরলেন তার নিজ আপন গৃহে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত