মমেকে আগুন: নিহত ৬, তাদের একজন পূর্বধলার হাজেরা বেগম
আরবান ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ রাত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার পর ভবনজুড়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ির মধ্যে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন-নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দার কুলসুমা (৩৫)।
এছাড়া এক বছর বয়সী এক অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক বেসরকারি কর্মকর্তা জানান, আগুনের ঘটনায় হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২০ জন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নতুন আটতলা ভবনের লিফট কন্ট্রোল রুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুন লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কন্ট্রোল রুম থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর পেয়ে ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল ও ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশনসহ পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের প্রতিটি তলায় তল্লাশি চালিয়ে আগুনের অবস্থান শনাক্ত করেন এবং সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, আগুন লাগার কারণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।







