শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

শেরপুরে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক ১৯ আদিবাসীদের মধ্যে ৫ জন গ্রেফতার , এলাকায় পুলিশ মোতায়ন


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৪ দুপুর

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বুধবার মাটিতে পুঁতে রাখা এক ব্যবসায়ীর মরদহ উদ্ধারের ঘটনায় ১৯ আদিবাসী নারী-পুরুষকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে ঝিনাইগাতী থানায় মামলা দায়ের করলে তাদেরকে যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৫ আদিবাসীকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং বাকিদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে এই হত্যাকান্ডকে ঘিরে পূর্ব গজারীকূড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এর ঝিনাইগাতী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি অসিম ম্রং এবং তার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। সেই সাথে ওই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে অসিম ম্রং সহ ১৯ জনকে আটক করে পুলিশের সপোর্দ করা হয়। এরপর থেকে পূর্ব গজারীকূড়া ও আশপাশের আদিবাসী পল্লীগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

এদিকে শেরপুর থেকে পুলিশ সুপার সহ স্থানীয় পুলিশ এবং স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় উদ্ধারকৃত মরদেহ ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের নামাজে জানাজা শেষে জারুলতলা গ্রামে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

অপরদিকে আদিবাসী গ্রামগুলোতে আতঙ্ক এবং ঘরবাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন ট্রাইবাল ওয়েলফার অ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ময়মনসিংহ ধর্ম প্রদেশ সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় বাঙালি এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে সম্প্রীতির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সকলকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অনুরোধ জানানো হয় এবং দোষী ব্যক্তি ছাড়া কাউকে হয়রানি বা গ্রেফতার না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। সেইসাথে যাদের কাছ থেকে গরু, ছাগল এবং আসবাবপত্র লুট করে নেওয়া হয়েছে সেগুলি ফেরত দেওয়ার জন্য পুলিশি সহায়তা বা হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এর ঝিনাইগাতি উপজেলা শাখার সেক্রেটারি অসীম ম্রং বলেন, আমাদের পাশের গ্রামের বিল্লাল হোসেন নামে এক মুসলিম বাঙালি নিহত হওয়ার ঘটনায় আমাদের গারো সম্প্রদায়ের উপর অযথা হামলা-ভাঙচুর করে স্থানীয় কিছু মানুষ। এতে আমাদের কয়েকজন গারো ভাই আহত হয়। যা খুবই দুঃখজনক। তবে বিল্লাল হোসেন এর হত্যার সাথে যেই জড়িত থাকুক তাকে আইনের আওতায় আনা হোক এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমি এবং আমার ভাই ভাতিজাসড় অনেককেই আটক করেছিলো। পরে আজ ছেড়ে দিয়েছে। টিডাব্লুএ এর ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দরা এলাকায় এসেছেন, পরিদর্শন করেছেন পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানায়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁঞা বলেন, পূর্ব গজারীকূড়া গ্রাম এলাকায় পুলিশ পাহারা রয়েছে। আশা করি আর কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না। এছাড়া সেখানকার বাঙালি-গারো সম্প্রদায়ের মানুষ সহাবস্থানে রয়েছে বলে আমরা জেনেছি।

এছাড়া ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত