বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

শেরপুরে বন্যহাতি সুরক্ষায় সচেতনামুলক র‌্যালি


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১২ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৬ দুপুর

‘হাতি বাঁচলে বাঁচবে বন, হাতি করবে বন সংরক্ষণ’-এই শ্লোগানে বিশ্ব হাতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে ১২ আগস্ট বুধবার  শেরপুরে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। 

জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জ, শ্রীবরদীর বালিজুড়ি রেঞ্জ এবং নালিতাবাড়ীর মধুটিলা রেঞ্জে শেরপুরবার্ড কনজারভেশন সোসাইটি, ‘হাতির খবরাখবর ও সচেতনতা’ গ্রুপ, বনবিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনাসভা, মানববন্ধন ও পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। 

এসব কর্মসূচিতে গারো পাহাড় অঞ্চলে বন্যহাতি সুরক্ষা, সংরক্ষণ, মানুষ-হাতি সহাবস্থান ও সংঘাত নিরসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা বার্তা তুলে ধরা হয়।

শেরপুরবার্ড কনজারভেশন সোসাইটির উদ্যোগে ঝিনাইগাতীর রাংটিয়া এলাকায় সীমান্ত সড়কের পদযাত্রা ও পথসভাঅনুষ্ঠিত হয়।  সংগঠনের সভাপতি সুজয় মালাকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভাটি সঞ্চালনা করেন আপন শিক্ষা পরিবারের প্রধান শিক্ষক ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষক রহমত আলী। এ সময় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইগাতি বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো. হেলালউদ্দিন, কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সামিউল হক, শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির অর্থ-সম্পাদক দেবদাস চন্দ বাবু, সদস্য কাঞ্চন মারাক, নিধারঞ্জন কোচ, লিয়াকত হাসান, পরিবেশকর্মী আশরাফুল ইসলাম, রফিক সরকার, মো. আরফান, শুভংকর বিশ্বাস, পিপলু প্রমুখ।

শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সভাপতি সুজয় মালাকার জানান,  গারো পাহাড়ে বিচরণকারী বন্যহাতিরা এখন নানা সংকটের মুখে রয়েছে। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রতিদিন ১৪০ থেকে ২৭০ কেজি খাবার এবং ২০০ থেকে ৩০০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু বনধ্বংস এবং বনের ভেতর ঝিরিগুলো মরুভুমিতে পরিণত হওয়ায় এবং হাতির চলাচলের আদিম পথগুলো বেদখল হওয়ায় তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত হাতির দল দিগভ্রান্ত হয়ে সমতলে নেমে আসছে। 

বালিজুরি রেঞ্জের ৮ হাজার ৩৩০ একর বনভূমিতে বর্তমানে প্রায় ১২০টি হাতি রয়েছে, অথচ বনের বর্তমান পরিবেশ এদের জন্য মোটেও অনুকূল নয়। গত ১০-১৫ বছর ধরে হাতির  লোকালয়ে আসার প্রবণতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তাতেই বাড়ছে হাতি-মানুষের দ্ব›দ্ব। মরছে হাতি, হতাহত হচ্ছে মানুষও।  বনে ভেতর হাতির খাবারের সংস্থান ও পানির আধার বাড়াতে হবে। বনে অবাধ প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। বনবিনাশী ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি জানান, সাম্প্রতিককালে কিছুসংক্ষক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কারণে বন্যহাতি উত্যক্তের ঘটনা বাড়ছে। এটা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শেরপুর জেলা প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সভাপতি শেরপুর সরকারী কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাদির বলেন, হাতি বাঁচলে,  বাঁচবে গারো পাহাড়। এটা আমাদের ‘ফ্ল্যাগশীপ’ প্রাণী। সেজন্য হাতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। 

বনবিভাগের তথ্য মতে, শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি জনপদে গত ১৬ বছরে (২০১৪ থেকে ২০২৬ সালেরমধ্যে) হাতি-মানুষের দ্বন্দ্বে প্রাণ গেছে ৪৭ জন মানুষের। এ ছাড়া হাতির আক্রমণে ঘরবাড়ি, গাছপালাসহ কয়েক কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ বিনষ্ট হয়েছে। একই সময়ে হাতি মারা গেছে ৩৫টি। যে সব বন্যহাতিমারা গেছে, তাদের বেশীর ভাগই বিদ্যুতের পাতা ফাঁদে, নয়তো ধারালো অস্ত্রের বা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।

শেরপুর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নুরুল করিম জানান, হাতি-মানুষের সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে বনের পরিবেশ পুণরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, বনভূমিতে হাতির উপযোগী খাদ্য সমৃদ্ধ বাগান তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। বন্যহাতি সুরক্ষায় সচেতনতা তৈরীতে এলিফেন্ট রেসপন্সটিম (ইআরটি) গঠন, সোলার ফেন্সিং ও বায়ো ফেন্সিং করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় পানির সংকট সমাধানের লক্ষ্যে হাতি সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় দেশের বনাঞ্চলে  কৃত্রিম জলাধার বা হ্রদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া বেদখল হওয়া বনভূমি উদ্ধারের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত