মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

পরপর দুই মাস জেলার শ্রেষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা নির্বাচিত হলেন পূর্বধলার হাবিবুর রহমান


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০১ বিকাল

ক্লু-লেছ নবজাতক হত্যা মামলার রহস্য দ্রুত উদঘাটন ও ঘটনায় জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ ভূমিকা রাখায় আবারও নেত্রকোণা জেলার শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হয়েছেন পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পিপিএম।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নেত্রকোণা পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় জুলাই ২০২৬ মাসের অপরাধ দমন, সার্বিক কার্যক্রম, ক্লু-লেছ মামলার রহস্য উদঘাটনসহ বিশেষ কার্যক্রমের মূল্যায়নের ভিত্তিতে তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে নেত্রকোণার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম তার হাতে সম্মাননা সনদ ও নগদ অর্থ পুরস্কার তুলে দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন পূর্বধলা উপজেলার কালীহর নদীতে এক নবজাতক কন্যাশিশুর মরদেহ ভেসে ওঠে। স্থানীয় লোকজন মরদেহটি দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ নদী থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহটি কালো রঙের শার্ট দিয়ে পেঁচানো এবং শরীরের সঙ্গে ইট বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে নবজাতকের পিতৃ ও মাতৃপরিচয় শনাক্তের লক্ষ্যে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ছিল একটি ক্লু-লেছ হত্যা মামলা। নেত্রকোণার পুলিশ সুপার ও পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জের সার্বিক দিকনির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পিপিএম তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত মো. সাজন মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

নবজাতক হত্যা মামলার রহস্য দ্রুত উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম তাকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করেন। পাশাপাশি জুলাই মাসের সার্বিক অপরাধ দমন ও তদন্ত কার্যক্রমের মূল্যায়নে তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

এ নিয়ে পরপর দুই মাস—জুন ও জুলাই—নেত্রকোণা জেলার শ্রেষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্বাচিত হলেন পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পিপিএম।

মাসিক কল্যাণ ও অপরাধ পর্যালোচনা সভায় নেত্রকোণা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জেলার সব থানার অফিসার ইনচার্জরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পিপিএম বলেন, “ঘটনাটি চ্যালেঞ্জিং ছিল। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় তথ্য-উপাত্ত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে।”

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত