বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

শেরপুরে ভিড় বাড়ছে ডিসির গণশুনানিতে 


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৭ রাত

জেলা প্রশাসকের (ডিসি) গণশুনানি হলো সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ ও সমস্যা শোনার একটি সরকারি উদ্যোগ। নির্দিষ্ট দিনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বা নির্ধারিত স্থানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের বিভিন্ন দাপ্তরিক জটিলতা, ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা বা সামাজিক অভাব-অভিযোগ সরাসরি ডিসির কাছে তুলে ধরেন। গণশুনানির উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব নাগরিকদের নানা সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান করা। সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো। প্রশাসনকে আরও বেশি জনবান্ধব ও সেবামুখী করে তোলা।

কিন্তু শেরপুরে প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে শতকরা ৮০ জন মানুষই আসে আর্থিক সাহায্যের জন্য। যে কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলা প্রশাসককে। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি যে বরাদ্দ সেই বরাদ্দের চেয়ে অধিক সাহায্য দিতে হচ্ছে। দিন দিন এই গন শুনানিতে ভিড় বাড়ছে। এক সময় প্রতি বুধবার একশোর মত মানুষ আসলেও এখন প্রতি সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ শতাধিক মানুষ আসেন নানা সমস্যা নিয়ে। তবে এদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষের আসেন চিকিৎসা সহ বিভিন্ন আর্থিক সাহায্যের জন্য। এদের মধ্যে আবার অনেকে রয়েছে যারা প্রতি মাসে এবং প্রতি সপ্তাহেই সাহায্যের জন্য একাধিকবার আসেন। এতে বেকায়দায় পড়তে হয় জেলা প্রশাসককে। 

স্থানীয় সচেতন মহান মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের এই গণশুনানি তৃণমূল পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের কাছেও করা উচিত। তাহলে হয়তো জেলা প্রশাসকের উপর চাপ কমবে। কিন্তু এমনও দেখা গেছে স্থানীয় এমপিরাও সুপারিশ করেন জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে আবেদন প্রার্থীদের সমস্যা সমাধানের।

গণশুনানিতে আর্থিক অনুদান বা সাহায্য ছাড়াও ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যা, ঘর তৈরির জন্য ঢেউটি টিন, বেকার নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান, চিকিৎসা সহায়তা, কর্মে অক্ষমতা, বেকারত্ব, নদী ভাঙ্গন সংক্রান্ত  সমস্যা, অসুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার প্রদান, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য সুপারিশ, গর্ভকালীন ভাতা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই কেনা সহ ফরম ফিলাপের আর্থিক সহযোগিতা সহ নানা কাজে জেলা প্রশাসক  সকলের বক্তব্য শুনে সমস্যার ধরন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা,  প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি আমার সরকারি বরাদ্দের মধ্যে থেকে যতটুকু পারছি করছি, কিন্তু সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি চাপ আসছে আর্থিক সাহায্যের জন্য। এটা আমার সাধ্যের বাইরে চলে যায় অনেক সময়। অসহায় মানুষের দুর্দশা ও কষ্টের কথা শুনলে তখন বরাদ্দের হিসাবটা মাথায় থাকে না। ওই সীমিত বরাদ্দের মধ্যে ম্যানেজ করে সবাইকে খুশি করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত