বিদেশ যাওয়ার টাকা না দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ স্বজনরা পলাতক
মো: মহিউদ্দিন আহাম্মেদ
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৬ দুপুর

হবিগঞ্জের মাধবপুরে তাহমিনা বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা না দেওয়ায় স্বামী ও তার স্বজনরা তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।
তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার বাঘাসুরা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাহমিনার মরদেহ উদ্ধার করে মাধবপুর থানা পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত তাহমিনা বেগম উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের ওসমান মিয়ার মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে বাঘাসুরা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে তাহির মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে।
নিহতের ভাই আলমগীর মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাহমিনার শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে তাদের সেখানে যেতে বলা হয়। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বোনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
আলমগীরের অভিযোগ, বিদেশ যাওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে তাহির মিয়া শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য তাহমিনার ওপর চাপ দিয়ে আসছিলেন। টাকা দিতে না পারায় তাকে প্রায়ই মারধর করা হতো।
তিনি আরও জানান, প্রায় তিন মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করে আহত করা হয়েছিল। পরে নাসিরনগর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপরও তার ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সর্বশেষ বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা চেয়ে চাপ দেওয়ার একপর্যায়ে তাহমিনাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর থেকে তাহির মিয়া ও তার ঘনিষ্ঠ স্বজনরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ডাক্তারি প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।


 (1) (1)_medium_1785138640.jpg)



