পূর্বধলায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের ১.৫ মিলিয়ন ট্রি ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৩ বিকাল

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দেশব্যাপী ১৫ লাখ গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেত্রকোণার পূর্বধলায় শুরু হয়েছে ‘১.৫ মিলিয়ন প্ল্যান্টেশন ট্রি ক্যাম্পেইন’।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পূর্বধলা এরিয়া প্রোগ্রাম (এডিপি) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এডিপি হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের নান্দাইল এপিসিও ও সিনিয়র ম্যানেজার কাজল আলফন্স দ্রং।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট কাজল কুমার দে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম অফিসার বাবলি রংমা।

উদ্বোধন শেষে ইউএনও শফিকুল ইসলাম উপকারভোগীদের মাঝে ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করেন। একই সঙ্গে উপকারভোগী পরিবারের শিশুদের মাঝে মাটির ব্যাংকও বিতরণ করা হয়। শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও শফিকুল ইসলাম বলেন, “ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ‘১.৫ মিলিয়ন প্ল্যান্টেশন ট্রি ক্যাম্পেইন’ একটি সময়োপযোগী ও অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। আমি আশা করি, ওয়ার্ল্ড ভিশনের এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসবেন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।”

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ জানায়, এ কর্মসূচির আওতায় পূর্বধলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ৬ হাজার ৯২০টি ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আম, পেয়ারা, লেবু ও নিমের চারা। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সড়কের পাশ, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন খালি জায়গায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
আয়োজকদের মতে, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্বন নিঃসরণ কমানো, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ভূমিক্ষয় রোধ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘ট্রি প্ল্যান্টেশন ফর সাসটেইনেবিলিটি’ স্লোগানে পরিচালিত এ কর্মসূচি আগামী আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।







