শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম

কলমাকান্দায় কৃষকদের মাঝে নির্বাচিত স্থানীয় ধানজাতের বীজ বিতরণ


  ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ রাত

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার তারানগর ও নয়াপাড়া কমিউনিটি বীজ ব্যাংকের উদ্যোগে কৃষক নেতৃত্বে পরিচালিত ধানজাত গবেষণায় নির্বাচিত ১০টি দেশীয় ধানজাতের বীজ ২০ জন কৃষক-কৃষানীর মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণকৃত ধানজাতগুলো হলো— মালশিরা, বুলাও, আলোকমতি, রহমান, জেসমিন, ঋ-৪, গ-২৫২, নাতিশাইল, প্রতীক্ষা ও আলফাইরি।

বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারানগর কমিউনিটি বীজ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মথি ঘাগ্রা, নয়াপাড়া কমিউনিটি বীজ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সলিতা চিসিম, মিকরাকা নারী সংগঠনের সভাপতি সাবিনা রংদী, বারসিকের মুন্না রংদী, আল্পনা নাফাক, মো. আলমগীর ও গুঞ্জন রেমাসহ স্থানীয় কৃষক-কৃষানী, মিকরাকা নারী সংগঠন এবং আফসান কৃষক-কৃষানী সংগঠনের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্থানীয় পরিবেশ ও জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম দেশীয় ধানজাত সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
 
কৃষকদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এলাকা উপযোগী ধানজাত নির্বাচন কৃষি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বারসিকের উদ্যোগে প্রতি বছর কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কৃষক নেতৃত্বে ধানজাত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ গবেষণায় বিভিন্ন স্থানীয় ও সম্ভাবনাময় ধানজাত একই পরিবেশে চাষ করে তাদের ফলন, রোগ ও পোকামাকড় সহনশীলতা, শিষের গঠন, গাছের উচ্চতা, জীবনকাল, খড় উৎপাদন এবং স্থানীয় পরিবেশে অভিযোজন ক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

গবেষণার শেষ পর্যায়ে আয়োজিত মাঠ দিবসে কৃষকরা সরাসরি গবেষণা প্লট পরিদর্শন করে বিভিন্ন ধানজাতের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেন। তাদের মতামত ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ধানজাতগুলো নির্বাচন করা হয়।

গত বছর তারানগর, নয়াপাড়া ও ভেলুয়াতলী গ্রামে পরিচালিত গবেষণার মাধ্যমে নির্বাচিত মালশিরা, বুলাও, আলোকমতি, রহমান, জেসমিন, ঋ-৪, গ-২৫২, নাতিশাইল, প্রতীক্ষা ও আলফাইরি ধানজাতগুলো এবার চাষাবাদের জন্য কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচিত স্থানীয় ধানজাতগুলো কৃষকদের মাঠে সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি কৃষকেরা বীজ সংরক্ষণ, বিনিময় ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষি জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত