দুর্গাপুরে সরস্বতী পূজাকে সামনে রেখে প্রায় ১৫০টি প্রতিমা তৈরি, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
নির্মলেন্দু সরকার বাবুল, দূর্গাপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১২ বিকাল
_original_1768730528.jpg)
হিন্দুধর্মের মতে, জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনার জন্য প্রতি বছর মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর তিথি অনুযায়ী আগামী ২৩ জানুয়ারি এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী দশভূজা মন্দিরে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা। নিখুঁত হাতের কারুকার্য দিয়ে তারা তৈরি করছেন ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির প্রতিমা।
হিন্দু ধর্মালম্বীদের বাড়ি, বিভিন্ন মন্দির, ক্লাব, স্কুল ও কলেজে এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তারা দেবীর আশীর্বাদ লাভের আশায় এ পূজা করে থাকে। সরস্বতী পূজাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা যায় স্কুল ও কলেজের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী সত্যম চক্রবর্তী বলেন, দীর্ঘ এক বছর আমরা অপেক্ষায় থাকি এই দিনটির জন্য। আমরা মায়ের কাছে আশায় রাখি যে আমাদের যেন মা বিদ্যা দেন, বুদ্ধি দেন। আমরা ভবিষ্যতে শিক্ষাক্ষেত্রে আরও ভালো করতে পারি। আরেক শিক্ষার্থী রাজেশ্বরী রায় বলেন, সরস্বতী মায়ের কৃপা পেলে আমরা বিদ্যা লাভ করতে পারি। এইবারও পূজো করে আশীর্বাদ চাইবো।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় প্রতিমা কারিগরদের তোরজোড় শুরু হয়েছে। প্রতিমা কারিগররা ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি প্রতিমা তৈরি করছেন। মাটি ও নানা উপকরণ দিয়ে তৈরি করা প্রতিমাগুলো বর্তমানে মাটির কাজ শেষ, এখন চলছে রঙের কাজ। আগামী তিন দিনের মধ্যে তারা প্রতিমা বিক্রি শুরু করবেন।
প্রতিমা কারিগর নারায়ণ চন্দ্র পাল জানান, প্রতিমা তৈরির কাজ এক মাস আগে থেকেই শুরু করতে হয়। প্রায় ১৫০টি প্রতিমা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হবে। আমাদের মতো এই পেশার সাথে জড়িতদের বছরে দুইবার উপার্জন করার সুযোগ মেলে একবার দূর্গা পূজায়, আরেকবার সরস্বতী পূজাতে। এ থেকে যা উপার্জন হয় তাতে কোনোভাবে চলতে পারি।
বকুল চন্দ্র পাল নামের আরেক কারিগর জানান, প্রতিমা তৈরিতে রঙের তুলির পাশাপাশি মেশিনের ব্যবহারও করা হচ্ছে, যার কারণে কমেছে সময় ও পরিশ্রম। এছাড়াও মেশিনের সাহায্যে প্রতিমায় রঙ ফুটানোও সহজ হচ্ছে।
নিজের কথা বলতে গিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা এই কর্ম শিখেছি, যা রোজগার হয় তাতেই সংসার চালাই। দিন-দিন প্রতিমার দাম কমে যাচ্ছে। আগে যে পরিমাণ বানাতাম, তার তুলনায় এই বছর অনেক কম হচ্ছে। মুজুরিও কম। আগে যেগুলো ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতাম, এবার তা ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হবে।


_medium_1768731203.jpg)




