বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

খানাখন্দে বেহাল ছাতিয়াইন-রতনপুর সড়ক, দুর্ভোগে যাত্রী ও স্থানীয়রা


  আরবান ডেস্ক

প্রকাশ :  ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৮ দুপুর

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রতনপুর-ছাতিয়াইন-ফান্দাউক সড়কটি গত দুই বছর ধরে খানাখন্দে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
 
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রতনপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাতিয়াইন হয়ে ফান্দাউক পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি প্রায় দুই বছর আগে রতনপুর থেকে ছাতিয়াইন বাজার পর্যন্ত সংস্কার ও কার্পেটিং করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং বৃষ্টির মধ্যেই তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করায় কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভারী মাটি ও বালুবাহী যানবাহন এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে।
 
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় যানবাহনের চাকা গর্তে আটকে গিয়ে যানজটেরও সৃষ্টি হয়।
 
ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের অটোরিকশা চালক শফিক মিয়া বলেন, “এই সড়ক দিয়ে রতনপুর থেকে ছাতিয়াইন, ফান্দাউক হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা এবং হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।”
 
তার মতো আরও কয়েকজন অটোরিকশা চালক জানান, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে যাতায়াতে সময় বেশি লাগছে এবং যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা।
 
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হলে বিকল্প পথ হিসেবে দূরপাল্লার বাস ও ভারী মালবাহী ট্রাক এই সড়ক ব্যবহার করে। নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
 
ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল খায়ের বলেন, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভায় আলোচনা করা হবে।
ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি এলজিইডিকে অবহিত করা হয়েছে।
 
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আগামী জুলাই মাসেই সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত