আজকের আরবানে সংবাদ প্রকাশের পর অন্ধ আকলিমার পাশে ইউএনও শফিকুল ইসলাম
নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ দুপুর

নেত্রকোণার পূর্বধলায় দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো অসহায় গৃহবধূ আকলিমা আক্তারের জীবনসংগ্রামের সংবাদ প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম। তিনি আকলিমার সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি ঘর নির্মাণে টিন দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্যসহায়তাও প্রদান করেছেন।
গত ১১ জুন আজকের আরবান-এ ‘২৫ বছরেই অন্ধ হয়ে গেলেন আকলিমা, এখন দুই সন্তানকে দেখাই তার শেষ স্বপ্ন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি ইউএনও শফিকুল ইসলামের নজরে এলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং আকলিমার খোঁজখবর নেন। তিনি তার বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও আগিয়া ইউনিয়নের বেড়াইল মধ্যপাড়া গ্রামে টানা বৃষ্টিতে সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
পরে আজ সোমবার (২৯ জুন) সকালে আকলিমা আক্তার তার দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ইউএনও তার শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা এবং পারিবারিক দুর্দশার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন।

সাক্ষাৎ শেষে ইউএনও শফিকুল ইসলাম আকলিমার সুচিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বসবাসের জন্য একটি ঘর নির্মাণে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে টিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি আকলিমার হাতে খাদ্যসহায়তাও তুলে দেন।
ইউএনও শফিকুল ইসলাম বলেন, “আকলিমার চিকিৎসার বিষয়ে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তার থাকার জন্য ঘর নির্মাণে পিআইও অফিসের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আজকের আরবান-এর স্টাফ রিপোর্টার নাহিদ আলম এবং সহসম্পাদক আবুল আরশাদ।
উল্লেখ্য, মাত্র ২৫ বছর বয়সী আকলিমা আক্তার চার বছর আগে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। এর এক বছর আগে তিনি স্বামীকেও হারিয়েছেন। বর্তমানে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে স্বামী-পরিত্যক্তা মায়ের ভাঙাচোরা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা, যা তার অসহায় পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।







