রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম

বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাহাঙ্গীর স্যারকে বিদায় জানাল জগৎমণি বিদ্যালয় পরিবার


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ২১ জুন ২০২৬, ০৭:১৬ বিকাল

নেত্রকোনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্বধলা জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক সৈয়দ মেহেদী হাসান (জাহাঙ্গীর) স্যারকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অবসরোত্তর বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত আবেগঘন অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত থেকে তার দীর্ঘ ২৭ বছরের কর্মজীবনের নানা স্মৃতি ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। স্মৃতিচারণ ও বক্তব্য পর্বে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ মেহেদী হাসান ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ৩০ মে ছিল তার শেষ কর্মদিবস। পরদিন ৩১ মে থেকে তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে যান। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আজ ২১ জুন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শুধাংশু শেখর তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরে আলম ছিদ্দিকী মামুন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবুল চন্দ্র সরকার, সাবেক সহকারী শিক্ষক এস এম এনামুল করীম, প্রাণেশ চন্দ্র দাস, শহিদুল ইসলাম ও জাহানারা বেগম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ও জাহাঙ্গীর স্যারের সহধর্মিণী সুরাইয়া আক্তারসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক মেহেদী হাসান খান সেলিম।

বক্তারা বলেন, জাহাঙ্গীর স্যার শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার উৎস। তার নিষ্ঠা, কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলাবোধ ও নেতৃত্বগুণ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া ও স্কাউটিং কার্যক্রমকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শুধাংশু শেখর তালুকদার বলেন, “খেলোয়াড়ি জীবনে জাহাঙ্গীর স্যার একজন সফল গোলরক্ষক হিসেবে স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সুনাম অর্জন করেছেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য এনে দিয়েছেন। স্কাউটিংয়েও তার অবদান ছিল অসাধারণ। তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের স্কাউট দল দেশ-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে।”

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরে আলম ছিদ্দিকী মামুন বলেন, “দীর্ঘ ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি বিদ্যালয়কে অনেক কিছু দিয়েছেন। তার অবসর আমাদের জন্য এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করবে। বিদ্যালয়ের ক্রীড়া ও স্কাউটিং কার্যক্রমে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পাশাপাশি জাহাঙ্গীর স্যার ক্রীড়া ও স্কাউটিং অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক ও প্রশিক্ষক হিসেবে তার হাত ধরে বিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে। স্কাউটিংয়ে তার সক্রিয় নেতৃত্ব বিদ্যালয়ের সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিয়েছে।

বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে সৈয়দ মেহেদী হাসান (জাহাঙ্গীর) স্যার বলেন, “এই বিদ্যালয় শুধু আমার কর্মস্থল নয়, এটি আমার দ্বিতীয় পরিবার। জীবনের ২৭টি বছর এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাটিয়েছি। সবসময় শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। অবসরে গেলেও এই বিদ্যালয় ও এর স্মৃতি চিরদিন আমার হৃদয়ে থাকবে।”

বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় উপস্থিত অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিও আবেগে আপ্লুত হন এবং পুরো অনুষ্ঠানস্থলে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে জাহাঙ্গীর স্যারের হাতে সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হন তিনি। উপস্থিত সবাই তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সুখী ও শান্তিময় অবসর জীবনের জন্য আন্তরিক শুভকামনা জানান।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত