নবনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রী পরিষদের আলোচনায় ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১০ নেতা
মো: খোরশেদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৯ রাত

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রী পরিষদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা ও চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ। এতে মূল্যায়িত হচ্ছে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা, পুরোধা রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য। ফলে এসব সমীকরণে আলোচনায় উঠে আসছে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১০ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম। তবে প্রত্যাশিত এ মন্ত্রী পরিষদে কাদের কাঁধে উঠবে দায়িত্বভার? এ নিয়ে গুঞ্জণ এখন সর্বত্রই।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ময়মনসিংহ অঞ্চলের রাজনীতিক, সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ও ভাবনায় উঠে আসে এসব তথ্য।
তৃণমূলের এ আলোচনায় এবারের মন্ত্রী পরিষদে প্রবীণ রাজনীতিক মো: নজরুল ইসলাম খান, কারা নির্যাতিত আব্দুস সালাম পিন্টু, অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বিগত সময়ের অভিজ্ঞ লুৎফুজ্জামান বাবর, জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, দলের সঙ্কটে পরীক্ষিত শরীফুল আলম, আইন অঙ্গনের ম্যূালয়নে ব্যারিস্টার কায়ছার কামাল, তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, জনপ্রিয় নেতা ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক জাকির হোসেন বাবলু এবং তরুণ প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুকে ঘিরে শোনা যাচ্ছে গুঞ্জণ।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা ও প্রবীণ রাজনীতিক মো: নজরুল ইসলাম খান মূল্যায়িত হতে পারেন টেকনোক্রেট কোঁঠায়।
নেত্রকোনার তেলিগাতী এলাকার বাসিন্দা ও ময়মনসিংহ নটর ডেম কলেজের শিক্ষক মো: আতিকুল বাশার বলেন- শুধু ভাটি-বাংলা নয়, উজান ভাটির ভূমিপুত্র নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ, মদন, খালিয়াজুড়ি) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি বিগত সময়ে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, আশা করছি এবারও তিনি নবগঠিত মন্ত্রী পরিষদের যোগ্য আসনে ঠাঁই পাবেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানান- বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে অতীতের সকল সরকারেই একাধিক গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিল। আশা করছি এবারও নতুন সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পাবে এই অঞ্চলের মানুষ। এতে আলোচিত নামগুলোর বাইরেও নতুনরা ঠাঁই পেতে পারেন, আসতে পারে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে নতুন কোন চমকও। ফলে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর, শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ ময়মনসিংহ বিভাগীয় নগরীতে আমরা অতীতের ন্যায় এবারও মন্ত্রী পাবার আশা করছি।
নগরীর সানকিপাড়া এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মো: কাশেম আলী ফকিরসহ আরও অনেকেই বলেন- দলের খারাপ সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থেকে হামলা-মামলায় নির্যাতিত হয়ে জেল খাটছেন সদরের নতুন এমপি ওয়াহাব। ছাত্র জীবন থেকে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পারিবারিকভাবেই তিনি পুরোদস্তুর রাজনীতিক। বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ন আসনে তিনি রেকর্ড পরিমান ভোট পেয়ে এমপি হয়েছে। আমরা চাই ওয়াহাব মন্ত্রী পরিষদে ঠাঁই পাক। এতে অবহেলিত ময়মনসিংহের উন্নয়ন হবে, থাকবে আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যও।
তবে মন্ত্রী পরিষদ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক (বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত) সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন- দল এবং নবগঠিত সরকারে আমাদের নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমি বিশ্বাস করি ভঙ্গুর রাষ্ট্র মেরামতে তিনি এদেশের মানুষের কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণে সফল রাষ্ট্র নায়ক হবেন।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও ময়মনসিংহ -০৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু বলেন- আমরা মানুষের জন্য রাজনীতি করি। আমার বড় ভাই একেএম মোশাররফ হোসেন বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। এখানকার জনগণের দাবি রয়েছে। তবে আমার নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
তরুণ রাজনীতিক ও ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন- দল এবং জনগণ আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে, আমি আমার কাজের মাধ্যমে দলের সুনাম করতে চাই। এর বেশি আমার কোন মন্তব্য নেই।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ প্রবীন রাজনীতিক ও কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিটামই-অষ্টগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো: ফজলুর রহমান বলেন, আমার নিজের কোন প্রত্যাশা নেই, আমার প্রত্যাশা শুধু বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে। মন্ত্রী পরিষদ গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন- যার নেতৃত্বে (তারেক রহমান) সরকার গঠন হবে, সাংবিধানিকভাবে এটা উনার অধিকার। তিনি যাদের বিবেচনা করবেন, তারাই স্থান পাবেন মন্ত্রী পরিষদে। দেখা যাক কী হয়- মন্ত্রী পরিষদ গঠনে ময়মনসিংহ বিভাগের অবস্থান।







