শেরপুরে বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেল করে দুই কুলই হারালেন মাসুদ
রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৫ রাত

শেরপুর-১ (সদর) আসন থেকে ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি'র বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে ফেল করেছেন।
এ আসনে হাফেজ রাশেদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আর ধানের শীষ প্রতীকের ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট। অপরদিকে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভোট পেয়েছে ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট। শফিকুল ইসলাম মাসুদ জেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। এর আগে মাসুদ ছাত্রদল এবং যুবদলের সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি সদর উপজেলা নির্বাচন করেছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র পর তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার না করার কারণে ১৩ জানুয়ারি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মাসুদ নির্বাচনে ফেল করার কারণে ভবিষ্যতে তাকে দলে আর সুযোগ দেয়া হবে না বলে মনে করছেন জেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। ফলে সে দু’কুলিই হারালো বলে মনে করছেন তারা।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে মাসুদ নিজেও বুঝতে পেরেছিলেন সে বিজয়ী হতে না পারলে দলের দরজা আজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে সেই সাথে এলাকার মানুষের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। সে কারণে তিনি নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট ভোট প্রার্থনার সময় বলতেন ‘আমাকে ভোট না দিলে, বিজয়ী না হতে পারলে আমি দুই কুলই হারাবো। তাই আমাকে ভোট দিয়ে আমার অস্তিত্ব রক্ষা করুন।’
মাসুদ পরাজিত হওয়ার পর শেরপুর রাজনৈতিক মহলে বিশেষ করে বিএনপি'র শীর্ষ পর্যায় ও সচেতন নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডাঃ প্রিয়াঙ্কার পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে সকল দায় মাসুদের উপর দিয়েছে। সে কারণে মাসুদ আজ (১৬ ফেব্রুয়ারি) তার ফেসবুক আইডিতে ভোটারদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, রাজনীতি হোক গণমানুষের জন্য, দল আমাকে সে শিক্ষাই দিয়েছে। তাইতো আমি আমার ৩৩ বছরের রাজনৈতিক জীবন বিস্বর্জন দিয়ে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে শেরপুর সদর বাসীকে একটি শান্তির শেরপুর উপহার দিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আপনাদের ব্যাপক সমর্থন ও উদ্দীপনাও পেয়েছি। যারা আমার এই সংগ্রামে পাশে থেকে সহযোগিতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাকে মনোবল যুগিয়েছেন তাদেরকে আমার অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। নির্বাচনে হার জিত থাকবেই। গণমানুষের রায়কে আমি সম্মান করি। শেরপুর বাসীর প্রত্যাশা পূরণে আমার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবনের কঠিন অধ্যায় মোকাবেলার মাধ্যমে আমি যেন সব সময় নিজেকে উৎস্বর্গ করে আপনাদের পাশেই থাকতে পারি। সকলের কাছে দোয়া চাই।







