শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম

পূর্বধলায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের গুজব ছড়ানোর অভিযোগ


  নাহিদ আলম, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ :  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ বিকাল

নেত্রকোনার পূর্বধলায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে ধর্ষণের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি গুজব।

এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় এক ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র ও শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে কয়েকটি বেনামি ফেসবুক আইডি থেকে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে পোস্ট দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সদর ইউনিয়নের নারায়ণডহর উকুয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মো. মানিক মিয়ার একই ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় কয়েকটি ফিশারি রয়েছে। বুধবার সকালে তিনি ফিশারিতে মাছের খাবার দিতে যান। এ সময় ফিশারির পাশের এলাকার তিন শিশু মাছের খাবারের বস্তার সুতা কুড়িয়ে নিতে খাদ্য রাখার ঘরের কাছে যায়।

পরিবারের দাবি, এ সময় মানিক মিয়া মজা করে বলেন, ‘তোরা সুতা-বস্তা নিয়ে যাস, তোদের আজকে আটকাবো দেখি কেমনে সুতা নেস।’ এরপর দুই শিশুকে মজার ছলে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি দরজা খুলে দেন। ঘটনাটি ফিশারিতে থাকা অপর এক ব্যক্তি প্রত্যক্ষ করেন বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তবে পরবর্তীতে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে-এমন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের কোনো মিল নেই।

শিশুটির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় সে স্কুলেও যেতে পারছে না বলে দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে মানিক মিয়া বলেন, রাজনৈতিক একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে। প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। যারা গুজব ছড়িয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পিপিএম বলেন, “এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কয়েকটি বেনামি ফেসবুক আইডির পোস্ট দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে তদন্ত করে ধর্ষণের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। এটি মিথ্যা গুজব।”

ভুক্তভোগী ও শিশুর স্বজনদের দাবি, যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন গুরুতর অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে শিশুটি ও তার পরিবার সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত