মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় উপদাখালী নদীর পানি বিপদসীমা উপর দিয়ে প্রবাহিতঃ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি 


  এ.কে.এম আব্দুল্লাহ, বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:০২ দুপুর

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের নেত্রকোনার কলমাকান্দায় উব্দাখালী নদীর পানি বিপদসীমা উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে এলাকার রাস্তাঘাট ও কৃষির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 
 
গত রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কলমাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নদী ভাঙনের ফলে আবাদি জমিতে বালু জমে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং ভেসে গেছে শতাধিক পুকুরের মাছ।
 
সোমবার (২০ জুলাই) কলমাকান্দা  উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ি ঢলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নাজিরপুর ও লেংগুরা ইউনিয়নের যোগাযোগ অবকাঠামো। বিশেষ করে নলছাপ্রা বাজার-বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ঢলের পানির তীব্র প্রবাহে সড়কটির প্রায় একশো ফুট অংশ সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রতিদিন সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
 
লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুর রহমান ভূঁইয়া ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে জানান, চেংনী নদীর পাড় ভেঙে ইউনিয়নের প্রায় পঞ্চাশ একর ফসলি জমিতে বালুর আস্তরণ জমেছে। এতে আবাদি জমিগুলো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়েছে। 
 
তিনি আরও বলেন, ‍“নলছাপ্রা বাজার-বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কসহ ইউনিয়নের একাধিক স্থানে রাস্তা ভেঙে গেছে। শুধু তাই নয়, ছোট-বড় শতাধিক পুকুরের মাছ ঢলের পানিতে ভেসে গেছে এবং কৃষকদের বোনা আমনের বীজতলাও বালু পড়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। 
 
খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক বলেন, ইউনিয়নে আমনের বীজতলা এবং শতাধিক মাছের পুকুর তলিয়ে গিয়েছে। মৎস্য চাষী ও কৃষকরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
 
তিনি আর ও জানান, পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কাঁচা সড়কটিও ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইউনিয়নের অন্যান্য কাঁচা ও পাকা সড়কেও পানির তোড়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
 
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর এভাবে সড়ক ও ফসলের ক্ষতি হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভেঙে যাওয়া সড়কগুলোর সংস্কার, নদীভাঙন রোধে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্য চাষীদের সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানিয়েছেন।
 
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাখাওয়াত হোসেন জানান, বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও
নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে কলমাকান্দা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদী ভাঙনের শংকা রয়েছে। 
 
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত