বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম

শেরপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু 


  রফিক মজিদ, শেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :  ০৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ রাত

শেরপুরে সাবেক ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। 

৬ জুলাই মঙ্গলবার ভোরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল থেকে নিহত ওই সাবেক ছাত্রদল নেতার মরদেহ দেখে পুলিশের খবর দিলে সদর থানা পুলিশ তার মরদহ থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের চাচা একাব্বর আলী জানায়, শহরের বাগরাকসা মহল্লার কাঁচামাল ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম কালুর ছোট ছেলে আলী রেজা (২২) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে শহরের ঢাকোলহাটি মহল্লার লুৎফর মিয়ার মেয়ে লুৎফুন্নাহার লোপার সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

আলী রাজা জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তার বড় ভাই হাসান আলী বর্তমানে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব রয়েছেন।

সম্প্রতি আলী রেজার বাড়িঘর সংস্কার করায় দিনের বেলায় বাসায় থাকলেও রাতের বেলা গিয়ে শশুর বাড়ি অবস্থান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাতে সে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। 

এরপর ৬ জুলাই মঙ্গলবার ভোর বেলা আলী রেজার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার বাড়িতে খবর দেয় যে, আলী রেজা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে এবং তাকে সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। 

খবর পেয়ে আলী রেজার আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে গিয়ে দেখেন আলী রেজার মরদেহ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের দাগ রয়েছে। পরে আলী রেজার বাবা শহিদুল ইসলাম কালু এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যা বলে সদর থানায় পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য প্রথমে ‌সদর থানায় এবং পরে মর্গে পাঠিয়ে দেয়। 

এদিকে বিষয়টি আলী রেজার বড় ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা আলী হাসান তার ফেইসবুক পেইজে আলী রেজার ছবি দিয়ে রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড বলে মৃত্যুর খবর পোস্ট করেন।

আলী রেজা সাবেক ছাত্রদল নেতা বলে বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাঈম হাসান উজ্জ্বল স্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, আজ ভোররাতে হাসপাতাল থেকে একটি আত্মহত্যার মরদহের খবর পেয়ে প্রথমে আমরা মরদেহ থানায় নিয়ে আসি। পরবর্তীতে মৃতের আত্মীয়স্বজন এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌথ সিদ্ধান্ত মোতাবেক মরদেহের ময়না তদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য ফেরত চায়। কিন্তু একটু পরেই আবার নিহতের আত্মীয়স্বজনরা এসে এটা রহস্যজনক মৃত্যু বলে লাশের ময়না তদন্তের জন্য থানায় রেখে যায়। সে হিসেবে আমরা প্রাথমিকভাবে একটি ইউডি মামলা নিয়েছি এবং মরদেহের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত